নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ১৯৫৮ সালে হাতিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৮১ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। তবে শিক্ষক সঙ্কটের কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের ২৭টি শিক্ষকের পদের মধ্যে ২৩টি পদই শূন্য রয়েছে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো শিক্ষক বেশি দিন দ্বীপ এলাকায় থাকতে চান না বলেই দিনের পর দিন চলছে এই শিক্ষক সঙ্কট । নদী আর সাগরের মোহনায় অবস্থিত দ্বীপ হাতিয়া। অনুন্নত আর দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দেশের দক্ষিণের এ দ্বীপের শিক্ষার্থীরা অনেকটাই নির্ভরশীল অভ্যন্তরীণ শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর।
তবে এ দ্বীপে মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ে রয়েছে একটি মাত্র সরকারি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক সঙ্কটের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে চালাতে হচ্ছে পুরো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, 'এখানকার যাতায়াত ব্যবস্থা একেবারে অনুন্নত, এ কারণে অনেকে এখানে এসে বেশি দিন থাকতে চান না। আমরা যারা আছি তাদের একেক জনকে অনেকগুলো ক্লাস নিতে হয়। দেখা যায় গণিতের শিক্ষককে মাঝে মধ্যে ইংরেজি ক্লাসও নিতে হয়। শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ে কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থী সংখ্যাও। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষকরা।
এ ব্যাপারে হাতিয়া শহর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ এফ এম শামছুদ্দীন বলেন, 'দূর দূরান্ত থেকে অনেকেই এখানে আসেন। এসেই বদলি হওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করেন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে যদি এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া হয় তবে অচিরেই এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়বে।'
হাতিয়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু তাহের মো. কামরুল ইসলাম জানান, হাতিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। শিক্ষক নিয়োগ করা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার।
এআর





