ছোট বেলা থেকেই মানবসেবার স্বপ্নে, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে যারা বিভোর ছিলেন তাদের স্বপ্নের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৭ অক্টোবর। আর ভর্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া যুদ্ধাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে কিছু কথা:
কিভাবে নিবে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি:
১) তোমাদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে, কিছুই মনে থাকছে না, ভুলে যাচ্ছি, ভয়ের কিছু নেই, এই সমস্যা তোমার অগ্রজদেরও ছিলো, সমাধান হলো ভয় না পেয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যাও। দেখবে পরীক্ষার হলে ঠিকই পারবে সব।
২) রিভিশন কিভাবে দিবো? এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশি দরকার রিভিশন। নতুন করে কিছু পড়তে যাওয়া বোকামি আবার পড়া আছে এমন সবকিছু রিভিশন দেয়াটাও বোকামি। চোখ বুলাও বিগত বছরের প্রশ্ন গুলোতে। যে ধরনের প্রশ্ন গুলো আসতো ঐ ধরণের প্রশ্ন গুলোই পড় বারবার।
৩) ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানে কিন্তু ২৫ নম্বর, অনেকে ভাবো এই দুইটা সাবজেক্ট পড়ে লাভ কি? এই দুইটা সাবজেক্টই সত্যিকার অর্থে পার্থক্য গড়ে দিবে, কি পড়বো? চোখ বুলাও বিসিএস ১০ থেকে ৩৬ এর প্রশ্নগুলো। অনেক প্রশ্নই কমন পড়বে। পাশাপাশি বিগত বছরের বিভিন্ন নিয়োগের প্রশ্ন গুলো দেখো। জোর দাও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ট্রপিকসেও।
৪)শরীরের যত্ন নাও, কমপক্ষে ৫-৬ ঘন্টা ঘুমাও, মনে রেখো এই সপ্তাহটা জীবনের অন্যতম একটা সপ্তাহ, অসুস্থ হওয়া যাবে না কোনোভাবেই।
৫)বিশ্বাস রাখো সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর। নিশ্চয়ই তিনি সবার পরিশ্রমের মূল্য দিবেন।
পরীক্ষার দিন করণীয়ঃ
* যানজটের হিসাব কষে সময় মতই বাসা থেকে বের হওয়া জরুরী।
* কি লিখবো ? প্রশ্ন কমন পড়বে কিনা? এসব বাজে চিন্তা করলে টেনশন বাড়বে যা পরীক্ষার হলে ইফেক্টিভ হতে পারে।
*কারো উপর অধিক নির্ভরশীল না হওয়া বা দেখে লেখার প্রবনতা দূর করা কেননা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নপত্রের সেট দেয়া থাকবে যা কারোর প্রশ্ন পত্রের সাথে মিলবে না ।
* যাওয়ার আগে চেক করে নাও ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র এবং এইচএসসি পরীক্ষার রেজিষ্ট্র্বশন কার্ড বা এডমিড কার্ড সংগে আছে কিনা, পর্যাপ্ত পরিমাণ পূর্ব ব্যাবহারিত কলম নিতেও ভুলবেনা ।
*কোনো অতিরিক্ত কাগজ নেওয়া যাবে না। রাফ পরীক্ষার উত্তরপত্রেই করা শ্রেয়।
*পরীক্ষার হলে হৈ-হুল্লুড় বা কথা বলাটাই বোকামি, এত বিশাল পরীক্ষায় কেউই তোমাকে সাহায্য করবে না। আর যদি করতেও আসে বুঝতে হবে সেই আসলে সাহায্যগ্রস্ত।
*ওএমআর সীটের তথ্যাদি ঠান্ডা মাথায় পূরণ করো। ভুল হলে সমাধান এর সম্ভাবনা সময়সাপেক্ষ এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্ষীণ। কোনো ভাবেই অন্য কারো সাথে সেট চেঞ্জ করা যাবে না। কারণ তোমার জন্য তোমার সেট ও উত্তরপত্র নির্ধারিত আছে।
* যে প্রশ্ন গুলো সহজ সেই প্রশ্ন গুলোই আগে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা। অপেক্ষাকৃত কঠিন প্রশ্ন এবং অংকগুলো পরে সমাধান করো।
*মনে রেখো, ১ ঘন্টার মধ্যেই পরীক্ষার সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া শেষ করতে হবে।
সর্বশেষ পরামর্শ, পরীক্ষার আগের রাতে অনেক ভালো ঘুমানো প্রয়োজন, ভালো ঘুম ভালো পরীক্ষার সহায়ক। পরীক্ষার দিন অবশ্যই সকালে নাস্তা করে যাওয়া, না হলে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
তোমাদের অপেক্ষায় মেডিক্যাল ক্যাম্পাস গুলো, জয় হোক যোগ্যতমদের, জয় হোক সত্য ও সুন্দরের। স্বপ্ন পূরণ হোক মেধাবীধের, সবার জীবন সুন্দর ও স্বার্থক হোক। শুভ কামনা রইল ।
এসএ





