রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাওন নামে এক ছাত্রদল নেতা ও তার বন্ধু সজীবকে (ছাত্রলীগ কর্মী) বেধড়কভাবে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্রলীগ নেতারা।

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় টুকিটাকি চত্বরে ছাত্রলীগের (বহিস্কৃতের সুপারিস) যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক কিবরিয়া, (অস্ত্রধারী ক্যাডার) সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহামেদ রুনু (বহিস্কৃতের সুপারিস) কাওছার আহামেদ কৌশিক এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।

আহত শাওন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয় ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

জানা যায়, দুপুরে টুকিটাকি চত্বরে শাওন ও একই বিভাগের শিক্ষার্থী সজীব বসে চা খাচ্ছিল। ছাত্রলীগের ফয়সাল আহাম্দে রুনু তাদেরকে দেখে অন্য দোকানে নিয়ে যায়।

এময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ফয়সাল আহামেদ রুনুর নেতৃত্বে অস্ত্রধারী ক্যাডার কিবরিয়া, কাওছার আহামেদ কৌশিক তার সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে।

এতে তার বন্ধু সজীব (ছাত্রলীগ কর্মী) বলে আমিও তো ছাত্রলীগ করি তোরা আমার বন্ধুর সাথে ভালো ব্যবহার কর। এতে তারা কয়েকজন মিলে তাদের উভয়কে উপর্যুপুরী কিল, লাথি মেরে মুখ থেতলে দেয়।

এসময় পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের দুইজনকেই পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। প্রাথমিক অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নিয়ে গেলে তাদের অবস্থা আরো অবনতি হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেকে) ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নিকট জানতে চাইলে তিনি টাইম নিউজ বিডি.কমকে বলেন, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী দুপুরে টুকিটাকি চত্বরের আনোয়ার ভাইয়ের খাবারের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিল এবং পাশেই থাকা কয়েকজন ছাত্রীকে উত্যক্ত করছিলো।

তাদের সাথে কথা বলার জন্য আমরা আহ্বান করি। কিন্তু তারা আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করলে তাদেরকে পুলিশে দেয়া হয়। এসময় দুজন পালিয়ে যায় বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানার সাথে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লব টাইম নিউজ বিডি.কমকে বলেন, দুপুরে ছাত্রদলের এক নেতাকে নিয়ে একটু সমস্যা হয়েছিল আমি শুনেছি। আমার পরীক্ষা থাকায় ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি।

তবে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা নাকি ক্যাম্পাসে নাশকতা করার চেষ্টা করছিল। এজন্য তাদেরকে ধরে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতারা।

এ ব্যাপারে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।     

এসএইচ