ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে বার বার দুর্ঘটনা ঘটার পরেও কোন পরিবর্তর আসেনি পরিবহন ব্যবস্থায়। ভাড়াকৃত বাসের গতি এখনও কমেনি।

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের সাথে টেম্পুর সংঘর্ষে নিহত হয়েছে এক টেম্পু যাত্রী।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঝিনাইদহ জেলার ভাটই বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়ছে।

এঘটনায় টেম্পুর চালকসহ ৭ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার পর থেকে সারা দিন ক্যাম্পাস থেকে ঝিনাইদাহ শহরে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

গত বছরের ২৯ নভেম্বর ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে বাস চাপায় ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের আগুনে অন্তত: ৪২টি বাস ভষ্মিভূত হয়। এঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা প্রায় চারমাস বন্ধ থাকে বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়াকৃত সাথী পরিবহণের একটি বাস ক্যাম্পাস থেকে ঝিনাইদহ ফিরছিলো। বাসটি শৈলকুপা উপজেলার ভাটই বাজারে পৌঁছালে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি টেম্পুকে ধাক্কা দেয়। এতে টেম্পুতে থাকা যাত্রী শাহিনসহ ৭ জন আহত হয়।

গুরুতর আহত শাহিনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করালে সেখানে তার মৃত্যু হয়। আহত অন্যদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে গত বছরে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর কারণে ক্যাম্পাসের ছাত্র নিহতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালযের প্রায় দেড় কোটি টাকা গচ্ছা গেলেও পরিবহণ ব্যাবস্থায় তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। অপরিবর্তিত রয়েছে বাসের গতি।

পরিবর্তন হয়নি রাস্তায় রাস্তায় সাধরণ যাত্রী উঠান এবং শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে ক্যাম্পাসের ভিতর থেকে গাড়ি গুলো তাড়াহুড়া করে ছিট খালি রেখে বাহির হওয়ার চেষ্টা করে এবং রাস্তায় রাস্তায় সাধারণ যাত্রী উঠায়। মাঝে মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছেও ভাড়া দাবি করে থাকে। তাদের অভিযোগ প্রশাসনের সঠিক তদারকির অভাবে এমন টা হচ্ছে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন- ‘ঘটানায় শাহিন নামে একজন টেম্পুর যাত্রী নিহত হয়েছে। আহত সাত জনকে ঝিনাইদাহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

পরিবহন প্রশাসক মামুনুর রহমান বলেন-‘এটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

ঘটনার কারণে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হয়েছে। শুক্রবার থেকে ঝিনাইদাহ শহরের সব গাড়ি নিয়মিত চলাচল করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ ব্যবস্থার পরিবর্তনে বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন-‘ আমাদের ক্যাম্পাসের ভারাকরা গাড়িগুলোর ড্রাইভার-হেলপার দক্ষ নয়। আমরা সরকারি গাড়ি (বি আর টি সি) ভাড়া নেয়ার চেষ্টায় আছি। সরকারি গাড়ি পেলে আমরা অভিজ্ঞ ড্রাইভার-হেলপার পাব। আশা করি তাতে আমাদের সমস্যা কিছুটা হলে কমে আসবে।’

এসএইচ