ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
নিয়োগ বোর্ডের প্রধান ও বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা প্ল্যানিং কমিটির সভার অনুপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন বলে জানা গেছে। মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ ভিসির সাথে সাক্ষাত করে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরা।
জানা যায়, ইতোমধ্যে ওই বিভাগের প্লানিং কমিটির সাত জন শিক্ষকের মধ্যে চার জন বিভাগের সভাপতির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
আবেদনে প্লানিং কমিটির সভায় উপস্থিত না থাকা সত্বেও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কিভাবে ওই চার জন্য শিক্ষকের স্বাক্ষর কার্যবিবরণীতে দেখানো হলো শিক্ষকরা তা তদন্তের দাবি জানান ।
এদিকে অবৈধ প্লানিংয়ের ভিত্তিতে আগামী ২৪ জানুয়ারি ঘোষিত নিয়োগ বোর্ড বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদ ও গ্রীণ ফোরাম।
সোমবার ভিসির সাথে দুই শিক্ষক সংগঠনের অন্তত: ২০ জন শিক্ষক দেখা করে এই দাবি জানান।
সূত্র মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগে ৪ জন প্রভাষক নিয়োগের জন্য ইতিপূর্বে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে ৮২ জন প্রার্থী আবেদন জানান।
আবেদন যাচাই বাছাইয়ের জন্য ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর বিভাগের প্লানিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্লানিং কমিটির ৭ জন সদস্যই উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আবেদন পত্রগুলো পর্যালোচনা করে একাডেমিক রেজাল্টের ভিত্তিতে একটি তালিকা প্রস্তুত করার জন্য সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
সিদ্ধান্তের আলোকে চারজন শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করে একটি যাচাই বাছাই কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। গঠিত কমিটি প্রতিবেদন তৈরী করে জমা দিলে তাতে বেশ কিছু ভূল ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে গত ৪ ডিসেম্বর বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. আরবিন্দু সাহা প্লানিং কমিটির সভা আহবান করেন।
কিন্তু ওই সময় বাস চাপায় ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় প্লানিং কমিটির অধিকাংশ সদস্য বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি।
ওই বৈঠকে ক্যাম্পাস স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত প্লানিং কমিটির সভা স্থগিত রাখার বিষয়ে মৌখিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কিন্তু বিভাগের সভাপতি ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ১৫ ডিসেম্বর মাত্র তিনজন সদস্যের উপস্থিতিতে প্লানিং কমিটির সভা করে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী ২৪ জানুয়ারি নিয়োগ বোর্ডের তারিখ ঘোষনা করেছে।
হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক এবং প্লানিং কমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিভাগের সভাপতি ড. আরবিন্দু সাহা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্লানিং কমিটির সভা করেছেন।
যে সভায় সাত জন সদস্যের মধ্যে আমরা চার জন সদস্যকে দাওয়াতই দেওয়া হয়নি। সভায় অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান সাক্ষর অস্পষ্ট দেখিয়ে প্লানিং করেছেন।
যা সম্পুন্ন অবৈধ। আমরা এই প্লানিং বাতিল করার জন্য রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছি।
এব্যাপারে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহার সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন-‘বিষয়টি নিয়ে প্লানিং কমিটির সদস্যরা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি যাচাই বাছাই করে এব্যাপারে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
কেএস/এসএইচ





