সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার শপথ নিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।  

আজ (১৬ অক্টোবর) বুধবর দুপুরে বুয়েট মিলনায়তনে এই গণশপথ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এক সারিতে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দেয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়।

এই গণশপথের মধ্য দিয়ে আবরার হত্যার বিচার দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের মাঠের আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটল।

শপথ নিয়ে বেলা ১১টা থেকে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে জমায়েত হন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টায় গণশপথ হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেটি দেরিতে শুরু হয়।

মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মাঠের আন্দোলন আজ থেকে স্থগিত করলেও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত থাকছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী আরিফ ইবনে আলী বলেন, “গণশপথের মধ্য দিয়ে মাঠের আন্দোলন শেষ হল৷ মাঠের আন্দোলন শেষ হলেও দাবিগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ চলবে।”

আবরার হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে যাদের নাম আসবে, তাদের সবাইকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।

উল্লেখ্য, সম্পাদিত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় গত ৬ অক্টোবর (রোববার) রাত ৩টার দিকে খুন হন বাংলাদেশ প্রকেৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার (০৫ অক্টোবর) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আবরার।

পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা। তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এই ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ।

এমবি