সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চা বিক্রেতা শ্রবণ প্রতিবন্ধী আকবর আলীর অদম্য মেধাবী মেয়ে সুইটি সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে দিন এনে দিন খাওয়া চা দোকানির মেয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার এ খবরে এলাকাবাসীও আনন্দিত। তার এই ফলাফলে নিজেদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চলনবিল বিল অঞ্চলে অবস্থিত তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মাকড়শোন গ্রামের শ্রবণ প্রতিবন্ধী আকবর আলী চা-পান বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। স্ত্রী মা মিনা পারভীন অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসারে যোগান দেন। তাদের ঘরে রয়েছে দুই মেয়ে এক ছেলে। সংসারে অভাব অনটন থাকলেও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ইচ্ছে তাঁদের।
কিন্তু সংসারে অভাব অনটন থাকায় ছেলের পড়াশোনা বন্ধ করে সংসারের কাজে লাগিয়ে দেন তাঁরা। বড় মেয়েকে কোন রকম ধার-দেনা করে বিয়ে দিলেও ছোট বেলা থেকেই ছোট মেয়ে সুইটি মেধাবী হওয়ায় তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ায় সাহায্য করেন তাঁরা।
সুইটি খাতুন গ্রামের প্রাথমিক স্কুল শেষ করে কয়েক কিলোমিটার দূরে লালুয়ামাঝিড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেখানে অষ্টম শ্রেণি পাশ করার পর তার অর্থের অভাবে যাতায়াত খরচ ও নৌকা ভাড়া না থাকায় কিছুদিন পড়াশোনা বন্ধ করে বাড়িতে কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে গ্রামের কৃতি সন্তান ঢাকা শিশু হাসপাতালের প্রফেসর ডা. আব্দুল আজিজ চলনবিলের অবহেলিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কথা ভেবে তার পিতার নামে জহির উদ্দিন বিজ্ঞান ও কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠান করেন।
ওই প্রতিষ্ঠানে সুইটি আবার ভোকেশনাল শাখায় নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। সেখানেই নিজের একক প্রচেষ্টায় শুরু হয় তার পড়াশোনা। কোনরকম প্রাইভেট না পড়ে নিজের প্রাণপণ চেষ্টায় সুইটি কঠোর শ্রম, অদম্য স্পৃহা আর একাগ্রতায় শুরু করে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি। বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ না থাকায় সে দিনের আলোয় পড়াশোনা করতো। এভাবেই সে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভোকেশনাল শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সবার মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
এত ভাল ফল করার পরও সুইটি ও তার বাবা-মা এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। কলেজে পড়াশোনা করার মতো সামর্থ্য না থাকায় সুইটির মেধা বিকাশের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসারের খরচ চালাতেই যাদের হিমশিম খেতে হয়, সেখানে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় কিভাবে উচ্চতর শ্রেণিতে লেখাপড়ার খরচ যোগাবে- তা ভেবেই তাদের এই আনন্দ নিরানন্দে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সুইটি জানায়, প্রতিদিন সে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পড়াশোনা করে এ ফলাফল করেছে। তাদের ঘরে বিদ্যুৎসংযোগ না থাকায় সে রাতে পড়াশোনা করতে পারেনি। ভবিষ্যতে সে প্রকৌশলী হতে চায়। কিন্তু অর্থের অভাবে তার সে স্বপ্ন পূরণ হবে কি না- তা ভেবে ফলাফলের আনন্দ করতে পারছিনে।
সুইটির মা মিনা খাতুন বলেন, খেয়ে না খেয়ে মেয়েকে পড়াশোনা করিয়েছেন। মাঝখানে টাকার অভাবে পড়াশোনা করাতে পারেননি। মেয়েকে নিয়ে সাধ অনেক। কিন্তু সাধ্য না থাকায় মেয়ের উজ্জল ভবিষ্যত নিয়ে কুল কিনারা পাচ্ছি না। সুইটি একটু সুযোগ পেলে লেখাপড়া করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারতো। তিনি তার মেয়েকে পড়াশোনা করানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
[b]ঢাকা, ২০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]
শিক্ষা
জিপিএ-৫ পেয়েছে চা বিক্রেতার মেয়ে সুইটি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চা বিক্রেতা শ্রবণ প্রতিবন্ধী আকবর আলীর অদম্য মেধাবী মেয়ে সুইটি সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে দিন এনে দিন খাওয়া চা দোকানির মেয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার এ খবরে এলাকাবাসীও আনন্দিত।





