ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান স্বধীনতা দিবসে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় নাম ঘোষণা নিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ গন্ডগোল সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে অনুষ্ঠান শেষে কামিল পরীক্ষায় ডিউটি সংক্রান্ত ফাইল নিয়ে মাদরাসা শাখার কতিপয় কর্মকর্তাদের সাথে ভিসির কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কর্মকর্তারা ভিসির বাসভবনের সামনে গিয়ে বিশৃঙখলা সৃষ্টি করলে প্রশাসন উদ্ধত পরিস্থিতি নিয়োন্ত্রণে আনে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীতের সাথে প্রশাসন ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তলোন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তলোন করেন প্রো-ভিসি। পরে ভিসির নেতৃত্বে এক বর্ণাট্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিসৌধে এসে শেষ হয়।

এসময় স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভিসি, প্রো-ভিসি ও রেজিস্ট্রার। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি, সহায়ক কর্মকর্তা সমিতি, সকল হল, বিভাগ, জিয়া পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম, ইবি সাংবাদিক সমিতি, ইবি প্রেসক্লাব, ইবি ল্যাবঃ স্কুল এ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে।

জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে সভাপতি প্রফসের ড. তোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রোদ্ধা জানায় জিয়া পরিষদের সদস্যগণ।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং দেশ ও মানুষের শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম আ স ম শোয়াইব আহমাদ।

প্রতক্ষ্যদর্শী সুত্রে জানা যায়, স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়ার সিরিয়ালে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নাম আনেক পরে ঘোষণা করায় হট্টগোল শুরু করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানের পরিচালক তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলামের কাছ থেকে মাইক্রফোন কেড়ে নেয়। এসময় তাদের মাঝে উচ্চ-বাচ্য বিনিময় হয়। তবে রাজিবুল ইসলাম বলেন, আমি লিস্ট অনুযায়ী নাম ঘোষণা করছিলাম। আমি ঘোষক মাত্র। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো সার্থ নেই।

এদিকে পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠান শেষে ভিসিকে বাস ভবনে ফেরার পথে পতিমধ্যে মাদরাসা শাখার কর্মকর্তা সাইদুর রহমান তপনসহ কয়েকজন ভিসির গতিরোধ করে। তারা ২৭ ও ২৮ তারিখের কামিল পরীক্ষায় নিজেদের পছন্দের কয়েক জন পার্থীকে ডিউটির জন্য মননিত সংক্রান্ত একটি ফাইলের অনুমদন চায়।

এসময় ভিসি বিষয়টি পরবর্তী কার্যদিবসে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে তার বাংলোয় চলে যায়। কিন্তু তাতে তারা শান্ত না হয়ে ফাইল অনুমদন করতে ভিসির সাথে সাক্ষাৎ করতে যায়। এসময় ভিসির বাস ভবনের কর্মকর্তাদের সাথে তাদের উচ্চ বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে ধস্তা-ধস্তি শুরু হয়। পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি শক্তি প্রয়োগ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, এমন একটি মহান দিনে এ ধরনের ঘটনা খুবই দু:খজনক। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি।

কেএইচ