ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ক্যাম্পাসে রূপ দিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ শিক্ষার্থী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ডাকসু এই পরিচ্ছন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেন। টানা তিন মাস চলবে এই কার্মসূচি।
তবে পরিচ্ছন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তাদের বেশ কিছু হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়।
রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্ত্বরে বঙ্গবন্ধু হলের ৩য় বর্ষের এক শিক্ষার্থী মূত্রত্যাগ করতে গেলে স্বেচ্ছাসেবী দলের এক সদস্য তাকে নিষেধ করেন। সেসময় ওই শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবীর সাথে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান চত্ত্বরে অবস্থিত কফি হাট’র প্রবেশ পথে মটর বাইক রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। সেসময় দায়িত্বরত এক স্বেচ্ছাসেবক বাইকটা সড়িয়ে রাখার অনুরোধ জানালে ওই শিক্ষার্থী তেড়ে আসেন আক্রমণের জন্য। সেসময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বাঁধা দিলে শিবির-জঙ্গিসহ বিভিন্ন ধরণের অপবাদ দেয় দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবিকে। পরে ওই শিক্ষার্থী (স্বেচ্ছাসেবী) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির চেষ্টা করেন।
এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা দৈনিক ঘটে চলেছে বলে জানায় স্বেচ্ছাসেবীরা। এবিষয়ে দায়িত্বরত এক শিক্ষার্থী জানায়, শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ডাস্টবিন ব্যবহারের পরামর্শ দিলে কিংবা কোন কাজে বাঁধা দিলে প্রায়ই তাদের সাথে অশোভনীয় আচরণ করা হয়। অথচ আমরা বিনা পারিশ্রমিকে বিশ্ববিদ্যালয়কে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে কাজ করছি।
তিনি বলেন, ভেবেছিলাম শিক্ষার্থীরা আমাদের কাজে সাহায্য, অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করবে। শিক্ষার্থীদের সাহায্য ছাড়া সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়া অসম্ভব। শিক্ষার্থীরা আমাদের কাজের প্রশংসা করলেও কিছু শিক্ষার্থী হেয় করে কথা বলেন। যা দুঃখজনক।
ডাকসু সদস্য মাহমুদুল হাসান বলেন, ১০০ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দল বিনা পারিশ্রমিকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার না করে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই। তবে স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণ সম্ভব।
হাসান/এমবি





