ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামী পন্থী শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০১৫ এর নতুন কমিটি ঘোষিত হয়েছে। এর আগে ৮ আগস্ট কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

শুরু থেকেই নির্বাচনের ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট পুন:গণনার দাবি জানায় শাপলা ফোরামের শিক্ষকদের একাংশ। জানা যায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে তারা। এদিকে ঘোষিত কমিটিকে স্বঘোষিত ও অবৈধ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে শাপলা ফোরামের একটি অংশ।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী পন্থী প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য সোমবার সকাল ৯টার দিকে নির্বাচিতদের পক্ষ্য থেকে প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন সাধারণ সভা আহবান করেন।

সাধারণ সভায় উপস্থিত নির্বাচিত সদস্যদের মনোনয়নের মাধ্যমে পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিনকে সভাপতি ও আইন ও মুসলিম বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সেলিম তোহাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া শাপলা ফোরামের ১৫সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে প্রফেসর ড. মো. রেজওয়ানুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শাহাদাৎ হোসেন আজাদ, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে প্রফেসর ড. আহসানুল আম্বিয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ আসকারী, প্রফেসর ড. জাকারিয়া রহমান, প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভুইঁয়া, প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রফেসর ড. এ এইচ এম আক্তারুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ, প্রফেসর ড. এ এস এম মোস্তফা কামাল ও মিজানুর রহমান মনোনীত হয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগে এবং তা নিয়ে আদালতে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় নতুন কমিটি অবৈধ বলে দাবি করেছে শাপলা ফোরামের শিক্ষকদের একাংশ।

সোমবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাপলা ফোরামের বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা বলেন-‘নব-নির্বাচিতদের ব্যাপারে আমাদের কোন আপত্তি নেই। তবে আমাদের দাবির স্পষ্ট ও যথাযথ। নির্বাচন কমিশন বরাবর আমরা ভোট পূণঃগণনার দাবি জানিয়েছি।

এবিষয়ে ফোরামের গঠনতন্ত্র আমাদের অধিকার দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের দাবির ব্যাপারে কর্ণপাত করেনি। বরং তারা আমাদের সাথে লুকোচুরি করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা বলেন, ৮ আগস্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ৯আগস্ট নির্বাচনের ভোট পূণঃগণনার দাবি উত্থাপন করা হয়। শিক্ষকদের আবেদনে নির্বাচন কমিশন সাড়া না দেয়ায় শিক্ষকরা আদালতের স্মরণাপন্ন হয়।

ভোট পূণঃগণনার দাবিতে দায়ের করা মামলা (মামলা নং-৩৯০/২০১৫) ১৯ আগস্ট শুনানী শেষে আদালত নির্বাচন কমিশনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। কিন্তু মামলা প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় আইন অবমাননা করে তারা নতুন কমিটি গঠন করেছে।

শিক্ষকরা এসময় বলেন-‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য একটি মহল নিজে নিজে কমিটি গঠন করেছে। প্রগতিশীলতার চাদর জড়িয়ে যারা দুষ্কর্ম করছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা দরকার। এই কমিটিকে অপশক্তি ও অবৈধ বলেও শিক্ষকরা দাবি করেন ফোরামের উল্লোখ যোগ্য একটি অংশ।

এসএইচ