শতবর্ষে পদার্পণকারী উত্তরের অক্সফোর্ডখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কারমাইকেল কলেজে ছাত্র সংসদ নেই ২৬ বছর ধরে। ছাত্র সংসদ না থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায় হচ্ছে ঠিকই। এতে করে ছাত্র সংসদের নামে ২৬ বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা আদায় করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।
সচেতন শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং কলেজ প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য ছাত্র সংসদ জরুরি।
১৯৯০ সালে কারমাইকেল কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে ছাত্র সংসদ ভেঙে দেয়া হলে আর নির্বাচন হয়নি। কিন্তু প্রতি বছরই ভর্তি এবং বিভিন্ন বিভাগের ফরম পূরণের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৫ টাকা করে ছাত্র সংসদ ফি ঠিকই নেয়া হচ্ছে। এতে প্রতি বছর কলেজের ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ হিসাবে ২৬ বছরে আদায় হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা। ছাত্র সংসদের নামে আদায়কৃত এই টাকা শিক্ষার্থীদের কোনো কাজে না লাগায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে তাদের মনে।
উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের মাষ্টার্স শেষ পর্বের ছাত্র চন্দন সাহা বাপ্পী ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের একমাত্র মাধ্যম হলো ছাত্র সংসদ। তাই আমরা মনে করি, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া জরুরি।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র খায়রুল ইসলাম খোকন জানান, কারমাইকেল কলেজের অনেক সম্পদ থাকার পরও দরিদ্র ও সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা টাকার অভাবে অনেক সময় লেখাপড়া করতে পারে না। ছাত্রদের এসব কথা বলার মাধ্যম হচ্ছে ছাত্র সংসদ। কিন্তু আমাদের নেই ছাত্র সংসদ অথচ ফি আদায়ের ব্যবস্থা আছে।
ইংরেজি বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের আমিনুল ইসলাম আপন নামে এক ছাত্র বলেন, ছাত্র সংসদ নেই, তবুও প্রতি বছরই আমাদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদ ফি নেয়া হচ্ছে, এটা ঠিক নয়।
এ ব্যাপারে কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিনতে হুসাইন নাসরিন বানু বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদ ফি হিসেবে যে টাকা নেয়া হচ্ছে, তা ছাত্র সংসদ তহবিলে জমা হচ্ছে। ওই টাকা তোলা হচ্ছে না। এ সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এমআইএস





