রাজশাহীতে অপহৃত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থার উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত ওই শিক্ষার্থীর নাম শাহরিয়ার হোসেন (২২)।
মঙ্গলবার বিকালে মহানগরীর সপুরা এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর গুরুতর আহত অবস্থায় বিশ্বদ্যিালয় শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হোসেনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযানে আটক পাঁচ অপহরণকারী হলেন, মহানগরীর সপুরা এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে সোয়ান উদ্দীন, মজিবুর রহমানের ছেলে আসাদুর রহমান, রেজাউল করিমের ছেলে ইমরান হোসেন, সাহেববাজার এলাকার সেলিম শেখের ছেলে ফয়সাল ইবনে সেলিম এবং শাহ মখদুম থানা এলাকার ইমরান হুদার ছেলে গালিব আওয়াল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপহরণের শিকার শাহরিয়ার হোসেন ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউআইটিএস) ছাত্র। তার বাড়ি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আব্দুল্লাহপুরে। শাহরিয়ার মহানগরীর সাহেববাজার এলাকায় মোল্লা ছাত্রাবাসে থাকেন।
বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুস সোবহান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে সপুরা এলাকার মুক্ত লজ ছাত্রাবাসের চতুর্থ তলা থেকে মারাত্মক জখম অবস্থায় শাহরিয়ারকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ওই পাঁচ অপহরণকারীকেও আটক করে।
তিনি জানান, দুপুর ১টার দিকে শাহরিয়ারকে অপহরণ করা হয়। উদ্ধারের পর বিকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শাহরিয়ারের নাক ফেটে গেছে এবং লাঠি দিয়ে পেটানোর কারণে বা পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পায়ে আঘাত রয়েছে।
ওসি জানান, অধরা নামের একটি মেয়ে ফোন করে শাহরিয়ারকে মুক্ত লজের কাছে ডাকে। এসময় আগে থেকে সেখানে অবস্থানকারী অপহরণকারীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে মুক্ত লজের চার তলায় নিয়ে যায় এবং একটি কক্ষে আটকে রেখে একলাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
টাকা দিতে রাজি না হলে তাকে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করা হয়। আটক ব্যক্তিরা অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি ও মারধরের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি লাঠি জব্দ করা হয়েছে।
শাহরিয়ারের অবস্থা সংকটাপন্ন। তার অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। সে সঙ্গে অধরা নামের ওই মেয়েটিকেও খোঁজা হচ্ছে। শাহরিয়ার সুস্থ হয়ে ওঠলে তার সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনায় অপহরণের মামলা হবে বলে জানান ওসি।
জেআই





