জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মাওলানা ভাসানী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি’র গ্রুপের কর্মীদের হামলায় হল থেকে বিতাড়িত সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল’র গ্রুপের তিন কর্মী আহত হয়েছে।
আজ রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক ডেইরি গেটে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কিশোর দাশ, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত কুমার নাথ এবং ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী এ কে এম খায়রুজ্জামান সঞ্চয়।
আহতদের সবাই তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে সঞ্চয়কে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাকী দুজনকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
একই ঘটনায় নোমান নামের অপর এক ছাত্রলীগ কর্মী পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করেছেন। তবে তার কাছে থাকা ৫০০ ডলার এবং দুটি মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, কিশোর দাস, সঞ্চয় ও শান্ত বিশ্ববিদ্যালয় ভাসানী হলের সংঘর্ষের ঘটনায় ২৩ জনের সঙ্গে বহিস্কার হয়েছেন। তবে সম্প্রতি উচ্চ আদালত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এ বহিস্কারাদেশকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে আদেশ জারি করেছেন।
হামলাকারীরা সবাই মাওলানা ভাসানী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিন্দ্য বাড়ৈ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলের অনুগত বলে জানা গেছে।
হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন হলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জোবায়ের, পাবলিক হেলথ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তারেক, চয়ন, জহির এবং একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব ও সোহেল, দর্শন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তুহিন এবং চারুকলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিক।
এ ঘটনার সময় উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মানস চৌধুরী বলেন, ‘৮-১০ জন হামলাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও ব্যাট নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ওই ছাত্ররা ডেইরী গেটে চা পান করছিল। এক পর্যায়ে আমি এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তে বহিস্কার হওয়া ও ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক কে এম নূরন্নবী বলেন, ‘আমরা উচ্চ আদালত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সহাবস্থানের আদেশ নিয়ে এসেছি। এছাড়াও আহতদের বহিস্কারের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এর পরও আমাদেরকে ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে পর্যন্ত আসতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা এর প্রতিকার চাই।’
এ ব্যপারে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, ‘ঘটনা বিস্তারিত শুনে আমরা ব্যবস্থা নেব।
এসএইচ





