প্রস্তাবিত খসড়া শিক্ষা আইন-২০১৪ পর্যালোচনা করা হয়েছে। আর পর্যালোচনায় ২০১৪ সালের শিক্ষা আইন অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ঢাকা কলেজ সংলগ্ন বাংলাদেশ শিক্ষা ও গবেষণা একাডেমী নায়েম কনফারেন্স হলে “প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০১৪” পর্যালোচনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। শিক্ষা আইনের ৬৪ নম্বর ধারায় এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

কর্মশালায় “প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০১৪” শীর্ষক খসড়া আইন পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (অডিট ও আইন) মো. রফিকুজ্জামান। বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই কর্মশালার আয়োজন করে।

প্রস্তাবনার শুরুতেই উল্লেখ করা হয় এই শিক্ষা আইন ২০১৪ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। এছাড়া বাংলাদেশের সমগ্র এলাকায় এবং বিদেশে অবস্থিত ও বাংলাদেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দ্বারা অনুমোদিত শিক্ষাঙ্গনের ক্ষেত্রেও এই আইন প্রযোজ্য হইবে।

পর্যালোচনায় তিনি বলেন, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক, উপানুষ্ঠানিক বয়স্ক ও জীবনব্যাপী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা মোট চার স্তর বিশিষ্ট শিক্ষা আইন ২০১৪ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ৬৭টি ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে।

যার চার নং ধারায় উল্লেখ করা হয় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কে। এ সম্পর্কে বলা হয়, শিক্ষার প্রতি শিশুদের আগ্রহী করে তুলিবার লক্ষ্যে ৪ বৎসর হইতে ৬ বৎসর পর্যন্ত বয়সের শিশুদের দুই বৎসর মেয়াদের বিদ্যালয়/ মাদরাসায় প্রস্তুতিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হইবে। প্রাথমিক শিক্ষার স্তর হইবে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। প্রাথমিক পর্যায়ের সকল শ্রেণীর শিশুর জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হইবে।

৫ নং ধারায় উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকালীন শিশুকে কোনো প্রকার মানসিক নির্যাতন বা শারীরিক শাস্তি প্রদান করা যাইবে না এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করিবার জন্য কাউন্সেলিং এর ব্যবস্থা করা হইবে।

৮ নং ধারায় উল্লেখ্য করা হয়, প্রাক-প্রাথমিকসহ প্রথম শ্রেণীতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করিতে হইবে এবং কোনরুপ ভর্তি ফি গ্রহণ করা যাইবে না।

৯ নং ধারায় উল্লেখ্য করা হয়, সকল ধরণের শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের বৃত্তিমূলক কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির জন্য ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ কোটা সংরক্ষণ করা হইবে।

১০ নং ধারায় উল্লেখ করা হয়, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাঙ্গনের কিন্ডারগার্টেন, ইংরেজি মাধ্যম ও এবতেদায়ী মাদরাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করিতে হইবে।

১৫ নং ধারায় উল্লেখ করা হয়, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইটির বেশি সরকারি/বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত বা নির্বাচিত হইতে পারিবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সোহরাব সোহাইনের সভাপতিত্বে এ সময় কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার হোসেন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ।

ঢাকা, ২৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ