ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ফলাফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্ত্বরে অবস্থান নিয়েছে মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। তারা পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে এবং বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তাদের কিছু অভিভাবক। এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের কিছু শিক্ষার্থী তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী ৪ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তির সময়সীমা ছিল কিন্তু কর্তৃপক্ষ কেন ২৮ সেপ্টেম্বর নোটিশ দিয়ে ২৯ তারিখ থেকে ভর্তি শুরু করল? ২৮ সেপ্টেম্বর তারিখের নোটিশে অধ্যক্ষের স্বাক্ষরে ২২ তারিখ থাকলেও এর আগে এ রকম কোনো নোটিশ দেখা যায়নি।

ঢামেকের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক প্রণব বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ঘটনা যদি না-ই থাকবে, তাহলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেন তড়িঘড়ি করে ফলাফল প্রকাশ করে রাতের আঁধারে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিবে?তিনি জানান, মেডিকেল কলেজ কলঙ্কিত দেখতে চান না, তাই শুরু থেকেই তাদের এ আন্দোলনের সাথেই ঢাকা মেডিকেলের অনেক শিক্ষার্থী।

আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী সালমান বলেন, আমাদের আজকে বড় সমাবেশ করার কথা থাকলেও আমাদের চারপাশেই পুলিশ ঘিরে রেখেছে। তারপরেও অনেকেই এখনও আসছে। আমরা আপাতত শহীদ মিনারে অবস্থান করবো, আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেশের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষার আগের রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের অনুলিপি পাওয়া গেছে এবং সে সব প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের মিল পাওয়া যায় বলে অভিযোগ ওঠে।

এরপর থেকেই মেডিকেল ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ও ফলাফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখেই গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে মেডিকেল কলেজগুলো তাদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে।

এদিকে ভর্তি পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পিএসসির সহকারী পরিচালকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। একই অভিযোগে গত ২২ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিকেল কলেজের তিন চিকিৎসকসহ সাতজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সব অভিযোগে সারাদেশে মেডিকেলে ভতিচ্ছু শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বাতিল চেয়ে আন্দোলন করে আসছেন। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

এআর