‘মুক্ত আলোয় আলোকিত করি ভূবন’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২৫ মার্চ থেকে শুরু করতে যাচ্ছে সাত দিনব্যাপী ‘মুক্তি সংগ্রাম নাট্যোৎসব- ২০১৭’। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও নাটকের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার গণজাগরণ ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াসে এই আলোচনা সভা ও নাট্যৎসবের আয়োজন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত একের পর এক আয়োজিত হবে আলোচনা সভা, গান, আবৃত্তি, আর্ট ক্যাম্প, নাট্যব্যক্তিত্বকে স্বারক প্রদান, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক প্রদর্শনীসহ যাবতীয় সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক ও উৎসবের আহবায়ক অধ্যাপক বশির আহমেদ লিখিত বক্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে উৎসবের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

২৫শে মার্চ বিকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু করবে সপ্তাহব্যাপী এ কর্মযজ্ঞ। বিকাল চারটা ৩৫মিনিটে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকার উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি, বীরপ্রতীক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিমিন হোসেন রিমি এমপি, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, ডা. দীপু মনি এমপি, ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, পিএসসির সদস্য ও সাবেক জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। অন্যান্য দিনের উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আকম মোজাম্মেল হক। পুরো আয়োজনে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

প্রথম দিনের কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও চারুকলা বিভাগের আয়োজনে সকাল ১০ টায় ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের আর্ট ক্যাম্প ও স্মারক প্রদর্শনী। বিকাল সাড়ে পাঁচটায় মুক্তি সংগ্রামে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে।

হৃদয়কাড়া সূচনা সঙ্গীতের সাথে থাকবে মঙ্গল মশাল প্রজ্বলন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক বশির আহমেদ। অধিবেশনে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম ও নাট্য আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য দেবেন অধ্যাপক এ কে এম ইউসুফ হাসান, নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি, সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ও সাবেক জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবাদুল করিম বুলবুল।

রাতে প্রদান করা হবে গুণী ব্যক্তিত্বদের স্মারক। অন্যান্যদের মধ্যে মরণোত্তর স্মারক সম্মাননা পাবেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র, উপমহাদেশের কিংবদন্তি অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী। নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, এবাদুল করিম বুলবুল, ডা. দীপু মনি এমপি, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন (মরণোত্তর), আব্দুল্লাহ আল মামুন (মরণোত্তর), কবি সৈয়দ শামসুল হক (মরণোত্তর), শহীদ জননী জাহানারা ইমাম (মরণোত্তর), তারামন বিবি বীর প্রতীক এবং স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

প্রথম দিনের অনুষ্ঠান শেষ হবে পদাতিক নাট্য সংসদ (টিএসসি) এর পরিচালনায় নাটক ‘কালরাত্রি’ মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে।

২৬ মার্চ ৩০ লাখ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা দিবসে অনুষ্ঠান শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ দেশব্যাপী ৩০ লাখ বৃক্ষ রোপণের উদ্বোধন করবেন। এর সাথে সঙ্গতি রেখে দুপুর তিনটায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও শুরু হবে বৃক্ষরোপণ। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির মুখপাত্র অধ্যাপক শাহরিয়ার কবির অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন। বৃক্ষরোপণ শেষে শুরু হবে সেই পর্ব যেখানে স্মারক সম্মাননা (মরণোত্তর) প্রদান করা হবে মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদকে। এছাড়াও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, চিত্রশিল্পী হাশেম খান, ভাস্কর জাহানারা পারভীনকেও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি বাবার পক্ষে স্মারক গ্রহণ করবেন তাজউদ্দিন আহমদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি। তাকেও স্মারক প্রদান করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

এদিন সাংস্কৃতিক পর্ব পরিচালনা করবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জাবি, শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ, জাবি এবং জয় বাংলা সাংস্কৃতিক জোট।

২৭ মার্চ তারিখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা ও সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করতে উপস্থিত থাকবেন গাজী গোলাম দস্তগীর গাজী এমপি, নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, অভিনয় ব্যক্তিত্ব ফেরদৌসী মজুমদার। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এছাড়া তিনি সম্মাননা স্মারকও গ্রহণ করবেন।

এদিন বেইলি রোডের ‘থিয়েটার’ এর পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হবে নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’।

২৮ মার্চ বিকাল ৫টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এদিন সম্মাননা জানানো হবে বধ্যভূমির আবিষ্কারক ডা. মো. আবুল হোসেন, সাংবাদিক মনজরুল আহসান বুলবুল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আকম মোজাম্মেল হক, সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভেলরি এন্ড টেলরকে। নাটক ‘সময়ের প্রয়োজনে’ মঞ্চস্থ করবে থিয়েটার আর্ট ইউনিট।

২৯ মার্চ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসিবে উপস্থিত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করবেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভি, বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। সবশেষে নাটক ‘নটপাল’ মঞ্চস্থ হবে বিধান চন্দ্র সিনহা ও তার দলের পরিবেশনায়।

শেষ দুদিনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিনেতা তারিক আনাম খান, ডাক্তার নুজহাত চৌধুরী, মাহাবুব আরা গিনি এমপি, পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আবু নাসের কামাল চৌধুরী, নাট্য ব্যক্তিত্ব সারা যাকের, রামেন্দু মজুমদার, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব এন্ড্রু কিশোর সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুণী ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থেকে স্মারক সম্মাননা গ্রহণ করবেন। এসময় নাটক মঞ্চস্ত হবে যথাক্রমে ‘মৃত্যুপাখি’ ও ‘জেরা’।

শেষের দিন মরণোত্তর সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মিশুক মুনিরকে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন উৎসবের সমন্বয়কারী মহিবুর রৌফ শৈবাল, জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির সদস্য সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ ও প্রভাষক সালমা আহমেদ।

রাইয়ান/জারিফ