ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন এ এফ এম মেসবাহ উদ্দিন।
এর আগে গত ৮ জুলাই দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে শিক্ষার্থীদের করা রিট আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আবেদনকারীরা।
ওই দিন রায়ের পর স্পষ্ট হয়, যারা এ বছর এইচএসসি পাস করবেন, কেবল তারাই ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ভর্তির জন্য পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন।
এ বছর পাস করা কোনো শিক্ষার্থী আগামী বছর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবেন না। কিংবা গত বছর পাস করা কোনো শিক্ষার্থী এ বছর ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবেন না।
এইচএসসি উত্তীর্ণরা এত দিন টানা দুবার ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেলেও গত বছর তা সীমিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক গত বছরের ১৪ অক্টোবর ওই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় শুধু ওই বছর এইচএসসিতে উত্তীর্ণরাই অংশ নিতে পারবে। দ্বিতীয়বারের মতো কেউ ভর্তি পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে না।
ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা সে সময় টানা কয়েক দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও অনশনের মতো কর্মসূচি পালন করেন। এরপর ভর্তিচ্ছুদের ২৬ জন অভিভাবক বাদী হয়ে গত মার্চে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন।
১৬ মার্চ রিট আবেদনটির ওপর প্রাথমিক শুনানির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আগের মতো দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ রেখে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চান আদালত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, রেজিস্ট্রার, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরীক্ষা কমিটির সম্পাদক, সহকারী রেজিস্ট্রার (একাডেমিক-২), ইউজিসি চেয়ারম্যান ও শিক্ষাসচিবকে এর জবাব দিতে বলা হয়।
এমকে





