'শিক্ষা ও সামাজিক উদ্যোগের জন্য বৃত্তি' এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী, অস্বচ্ছল ও প্রতিবন্ধী ৭০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ( ঢাবি) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদেরকে বছরে ৩০ হাজার করে ৪ বছরে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তির চেক তুলে দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা হল সবাইকে শিক্ষিত করে তোলা। এই শিক্ষিত করে তোলার জন্য যে ধরনের সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা যায় সেখানে স্টাডি করা দরকার।
সেজন্য আমি আশা করবো বিশ্ববিদ্যালয় এ্যালামনাই এসোসিয়েশন আরো কিছু প্রকল্প গ্রহণ করবে। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত ও কাঠামোগত সমস্যা কিছুটা হলেও নিরসণ করা যায়।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে অাব্দুল মুহিত বলেন, আজকে তোমরা যারা বৃত্তি পেয়ে শিক্ষাজীবনকে সমাপ্ত করার সুযোগ পেয়েছ, সেটাকে তোমরা নেয়ামত হিসেবে বিবেচনা করবে।
এ নেয়ামতকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে কাজে লাগিয়ে কিভাবে নিজের জীবনকে উজ্জ্বলভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পার সে চিন্তা করতে হবে।
শিক্ষার্থীদেরকে উচ্চাশার প্রতি গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখানে বসেই তোমাদেরকে চিন্তা করেতে হবে যে আমাকে বিভিন্নক্ষেত্রে নিজের অবদান রাখতে হবে। এজন্য প্রত্যেককে আশা করতে হবে। তবে এটা ঠিক যে, সকলেই সব কিছু হতে পারে না। কিন্তু উচ্চাশা রাখতে হবে। উচ্চাশা সার্থকতার ভিত্তিপ্রস্তর বলে এসময় তিনি উল্লেখ করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, উচ্চাশা থাকলেই জীবনের স্বপ্ন সার্থক করত্পোরবে। সেই স্বপ্ন তোমাদেরকে দেখতে হবে এবং জানতে হবে অন্যরা কিভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। সেভাবেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সমস্যাকে উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব উল্লেখ করে মুহিত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা সুবিধা হলো তাদের পর্যাপ্ত জায়গা আছে। তারা একটু উদ্যমী হলে তাদের জায়গার কোনো অসুবিধা হবে না।
এজন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ব্যক্তিবর্গ যথেষ্ট সহযোগিতা করতে পারবেন বলেও তিনি মনে করেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ভৌত ও কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে তা সমাধান করেত অ্যালমনাই এসোসিয়েশন কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, পড়াশুনার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ সকল ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সমস্যা রয়েছে আমরা সেগুলো পর্যায়ক্রমে উত্তরণ ঘটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে শুধুমাত্র অর্থের অভাবে যেন লেখাপড়া বন্ধ না হয়ে যায়- অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের এমন উদ্দেশ্য ও পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬-৯৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম উল্লেখ করে অ্যালামনাইদের ধন্যবাদ জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
বিগত বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যায়তনিক বহু কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়ে ইতিমধ্যেই ৯৫টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে উপনীত হয়েছে। তাই স্থান ও অবকাঠামো সংকটের বিষয়ে অবহিত করে তিনি অ্যালামনাইদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সোনার বাংলা গঠনের জন্য নিজেদের গড়ে তোলার প্রতি আহবান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি এ কে আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার এর সঞ্চলনায় অনুষ্ঠনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্ণর এস. কে. সুর চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, পোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান প্রমুখ।
ইসমাইল/এমবি





