রাজধানীর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন তাঁর সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আজ শনিবার বেলা ১১টায় তাঁরা রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন।

এ সময় তাঁরা রুম্পা হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস ফর রুম্পা’সহ নানা স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কমসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরাও। তাদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

এসময় তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, রুম্পার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কোন সময় লক্ষ্য করেননি তারা। তাকে কখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্তও মনে হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যায় জড়িতদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহে রুম্পার গ্রামের বাড়িতে মরদেহ দাফন করা হয়। নুসরাত হত্যার মামলার মতো দ্রুত বিচার দাবি করেছে রুম্পার পরিবার।

শিক্ষার্থীদের দাবি, রুম্পা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। কিন্তু ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যা রহস্যের কূলকিনারা করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত যারা আছেন তাদেরকে যেন দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয়। 

পাশাপাশি এ আন্দোলন প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যেন সকল শিক্ষার্থী ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। 

মানববন্ধনে রুম্পার সহপাঠীরা বলেন, 'আর যেন কোনো রুম্পাকে এভাবে মরতে দেখতে না হয়। এ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র বিচার মৃত্যুদণ্ড। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলেই পরবর্তীতে আমরা রক্ষা পাব, নাহলে এরকম নির্মম হত্যাকাণ্ড চলতেই থাকবে।' 

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম মাছুম বলেন,' শুরু থেকেই এ হত্যাকাণ্ড অন্যদিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফেনীর নুসরাত হত্যার ঘটনাও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছিল। অন্য কোনো ইস্যুতে যেন রুম্পা হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা না পড়ে সেদিকে নজর দিতে হবে।' 

তিনি আরও বলেন, 'চারদিকে এত হত্যা, খুন-ধর্ষণের ভিড়ে আমরা শুধু স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই, আর কিছু নয়।' 

মানববন্ধন শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ধানমন্ডি ১৯ থেকে ১৫ নম্বর পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাতটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন। 

উল্লেখ্য, গত বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে ওই ছাত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। যে জায়গায় এ ঘটনা, তার আশপাশে বেশকিছু ছেলে ও মেয়েদের হোস্টেল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হত্যার আলামত সংগ্রহ করেন।

 


এএস