টাঙ্গাইলের সন্তোষস্থ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪টি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষা গ্রহণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বার বার সভা করেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে না পারায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, জুনের প্রথম সপ্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪টি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের সকল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৩ মে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা এএসকে মোশারফ ও মনির এই দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অপরাধ তত্ত্ব ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র আবু সাদাত খালেদ মোশারফ (২৪) নিহত হন।

ওই ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। সকল পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। অদ্যাবদি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। ফলে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরীক্ষা কার্যক্রম।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ঘটনার ৩ সপ্তাহ অতিবিাহিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামলে ওঠতে পারছে না। অথচ পরীক্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে। এরআগেও হরতাল-অবরোধের কারণে নির্ধারিত পরীক্ষা নিতে পারেনি। এতে, সেশন জটের সম্ভাবনা বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ছে, তাদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. খালেমুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় খোলা বা পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে বৈঠক করছে। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা এএসকে মোশারফ ও মনির গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আবু সাদাত খালেদ মোশারফ (২৪) নিহত হন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার মুজাট্টি গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলামের ছেলে। এসময় মোশারফের সহপাঠি ফয়সাল ও বাঁধন আহত হন। আহত ফয়সাল ও বাঁধন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতেলে চিকিৎসাধীন।

ওই ঘটনায় গত ১৪ মে রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের এসএম রবিউল হাসান সাজু ,এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ওমর ফারুক,

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের মনিরুল ইসলাম মনির ও একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের আশিকুর রহমান, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের মোহাইমিনুল কাইয়ুম ও একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের উমর ফারুক,

ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের এমএ আহাদ খান ও বাবু কিশুর দে এবং ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের সাইদুর রহমান এই ৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

১৩ মে রাত ৮টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশে সকাল ১০ টার মধ্যে ক্যাম্পাস শিক্ষার্থী শূণ্য হয়ে যায়।

এদিকে, গত ১৬ মে (শনিবার) বিকালে নিহত ছাত্রলীগ নেতা এএস কে মোশারফের বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি) তদন্ত করছে।

টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশের ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় গত ২৩ মে (শনিবার) মামলার তালিকাভুক্ত আসামি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র উমর ফারুককে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

এআর