দেশের সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক একযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি লিখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাঁচ দফা দাবি পূরণে আগামী ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার এই চিঠি লিখবেন তারা। এরা সবাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ৬৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা পোস্টকার্ডের মাধ্যমে নিজ নামে পৃথকভাবে এই চিঠি লিখবেন।

রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনে 'প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ'-এর এক সভায় এ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচির কথা জানানো হয়।  

শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহীনূর আল-আমীন বলেন, প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখবেন।  আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হলে সংবাদ সম্মেলন করে তারা পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি জানিয়ে দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষকদের নিচের ধাপে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণসহ পাঁচ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।  সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোকাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষক বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।  শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল-আমীন, সাধারণ সম্পাদক হালিমুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সংগঠনে যোগদানকারী নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।  সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. হালিমুজ্জামান।  সূচনা বক্তব্য রাখেন ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শাহিনুর আল-আমীন।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে আর্থিক সমতা স্থাপন করে কর্মক্ষেত্রে সুন্দর পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।  শিক্ষকদের সামাজিক, অর্থনৈতিক মান উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সংগঠনের সভাপতি স্বাগত বক্তব্যে বলেন, একজন প্রাথমিক শিক্ষক যে পদে যোগদান করেন ওই পদ থেকেই সাধারণত তাকে অবসর নিতে হয়। কারণ তার ভাগ্যে কোনো পদোন্নতির সুযোগ হয় না।  মাত্র ১৫ ভাগ সহকারী শিক্ষক চাকরি জীবনে একবার পদোন্নতি পান।  সেটাও আবার স্ব-বেতনে।  এ কারণে মেধাবীরা এই পেশায় আসতে চান না এবং এলেও থাকতে চান না।  যোগ্যতা অনুযায়ী শতভাগ প্রমোশন চালু না করলে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

শিক্ষক নেতারা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে প্রমোশন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে বন্ধ রয়েছে।  অচিরেই শতভাগ প্রমোশন চালু করতে হবে এবং জাতীয় পর্যায় গ্রেডেশন করে একই সঙ্গে সারাদেশে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের সিনিয়র সহসভাপতি এ.কে.এম খসরুজ্জামান, ইলিয়াস হোসেন, মোকাম্মেল হোসেন, শহীদুল ইসলাম, মাহবুব হাসান রাজু, নুরুল ইসলাম, আজিজার রহমান মিল্টন, সেলিম হোসেন, নুর ইসলাম, আল মেরাজ, আতাউর রহমান, আবে কাওসার জাহান মিঠু, বাবুল আক্তার, মতিউর রহমান, মাসুদ করিম, রাশেদা খাতুন, কবির হোসেন, মুনসুর আলম টিপু, তূর্য বসুনিয়া, এখলাসুর রহমান প্রমুখ। 

শিক্ষকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের নিচের ধাপেই নির্ধারণ করা, সরাসরি প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বন্ধ করে সহকারী শিক্ষক পদ থেকে নিয়োগ দিয়ে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে মহাপরিচালক পদ পর্যন্ত শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির সুযোগ প্রদান, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা পরিবর্তন করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ, নন-ভ্যাকেশনাল ডিপার্টমেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য অর্জিত ছুটির বিধান প্রণয়ন এবং প্রত্যেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া ও প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হওয়ায় নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেলে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করা।

জারিফ