মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থায় ২০১২ সালে প্রণীত নতুন ক্যারিকুলামে ‘ক্যারি অন’ সিস্টেম পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে মেডিকেল শিক্ষার্থীবৃন্দ।

কোন পেশাগত পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী বর্ষের ক্লাসে অংশগ্রহন করতে পারার প্রথাকে মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘ক্যারি অন’ সিস্টেম বলা হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ছোট হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সংগঠনের মুখপাত্র স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তাজ মো. মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘২০০২ সালে প্রণীত ক্যারিকুলাম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী প্রথম পেশাগত পরীক্ষায় অংশগ্রহনের যোগ্যতা অর্জনের পরেই ২য় পেশাগত পরীক্ষার যাবতীয় ক্লাসে অংশগ্রহনের অনুমোদন প্রাপ্ত হতো। এই ক্যারিকুলামে পেশাগত পরীক্ষা ছিল ৩টি এবং একজন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে উত্তীর্ণ না হলেও ৬ মাস পর অনুষ্ঠিত সাপ্লিমেন্টারিতে কৃতকার্য হলে তার শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে পড়তো না।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু নতুন ক্যারিকুলাম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী প্রথম সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষায় কৃতকার্য হলেও সে তার শিক্ষাবর্ষ থেকে ৬ মাস পিছিয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবগঠিত ব্যাচের একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা এ ক্যারিকুলামে উল্লেখ নেই।’

এর ফলে মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোর অপ্রতুলতা এবং পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে ২ টি চলমান ব্যাচের সাথে ১ টি ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।’

অন্যদিকে, এই পদ্ধতির কারণে সরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসগুলোতে তীব্র আবাসন সংকট দেখা দিবে এবং রাজস্বখাত থেকে অতিরিক্ত ব্যয় হবে। বেসরকারি মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা একটি বিশাল আর্থিক বাঁধার সম্মুখীন হবে বলেও মনে করেন তিনি।

মেডিকেল কলেজগুলোর মূল চালিকা শক্তি প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার ইন্টার্ণ চিকিৎসকের সংকট দেখা দেবে এবং সময়মতো বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসক সংকট দেখা দেবে বলেও উল্লেখ করেন মঞ্জুরুল হক।

এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে স্বাভাবিক করতে নতুন ক্যারিকুলামে ‘ক্যারি অন’ সিস্টেম পুনর্বহালের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন ও করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান, ময়মনসিং মেডিকেল কলেজের রাশিক আহমেদ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী প্রিয়াংকা নওশীন প্রমুখ।

 

এমএ