ইসলামী বিশ্বাবিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড.শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্য জালিয়াতি এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম।
সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ইবি প্রেস কর্ণারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শাপলা ফোরাম এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দু প্রফেসর ড.শাহিনুর রহমানের পিএইচ.ডি জালিয়াতির তথ্য-প্রমাণ সংবাদিকদের পড়ে শোনান ।
যাতে বলা হয়েছে, প্রফেসর ড.শাহিনুর রহমান প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্রিয়ায় মাত্র পাঁচ মাস সাত দিনে স্বীয় তত্ত্বাবধানে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেছেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০২-২০০৩ শিক্ষাবর্ষে অন্য আরো সাত জনের সাথে পিএইচ.ডি কোর্সে রেজিস্ট্রেশন করেন ড. শাহিন।
অন্যদের আবেদনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অনুষদের সুপারিশে বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের সভায় উত্থাপিত হলেও ড.শাহিনের বিষয়টি উত্থাপনের কোন তথ্য প্রমাণ নেই।
২০০২ সালের ৩ জুলাই ড.শাহিন এক আবেদন পত্রে বলেন, ব্লুমিংটনের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটিতে ১৯৯৯ সালের ২৩ আগস্ট পিএইচ.ডি গবেষক হিসেবে তিনি রেজিষ্ট্রার্ড হয়েছেন এবং সেখান থেকে মোট ৬০ ক্রেডিটের মধ্যে তিনি ৪০ ক্রেডিট অর্জন করেছেন।
কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির নীতিমালা অনুযায়ী পিএইচ.ডি করতে হলে ৯০ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হবে। এদিকে এই সূত্রে তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটিতে প্রাপ্ত রেজিস্ট্রেশনের তারিখ থেকে তার রেজিস্ট্রেশন গণ্য করার আবেদন জানান।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেডিট কিংবা রেজিস্ট্রেশন গণ্য করার বিধি না থাকলেও তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে ১৯৯৯-০০ শিক্ষাবর্ষে ১ জুলাই খেকে ড.শাহিনকে পিএইচ.ডি কোর্সে রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হয় অথচ আবেদনে উল্লেখ করেছেন তিনি ইন্ডিয়ানা থেকে ২৩ আগস্টে রেজিস্ট্রার্ড হয়েছেন।
এছাড়াও তিনি স্বীয় তত্ত্বাবধানে রচিত থিসিস জমাদানের আবেদন করেন ২০০২ সালের ৩ জুলাই। যা রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির প্রকৃত তারিখেরও আগে এবং প্রকৃতপক্ষে তিনি ডিগ্রিপ্রাপ্ত হন থিসিস জমাদানের আবেদন এবং জমাদানের মধ্যবর্তী মাত্র পাঁচ মাস সাত দিনে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী একজন পিএইচ.ডি গবেষককে থিসিস জমাদানের পূর্বে নূন্যতম দুইটি সেমিনার দিতে হয়। অভিযোগকারীরা বলেন, আমাদের জানা মতে ড. শাহিনুর রহমান একটি সেমিনারও দেননি, যা পিএইচ.ডি বিধিমালার সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন।
সাংবাদ সম্মেলনে উপরিক্ত তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করে অভিযোগকারীরা প্রশ্ন রাখেন, এতসব অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে পিএইচ.ডি ডিগ্রির আনুমোদন পেলেন। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান কি শুধুই কাগুজে ব্যাপার মাত্র?
তারা দাবি করেন, প্রো-ভিসি প্রফেসর. শাহিনুর রহমানের পিএইচ.ডি ডিগ্রি অসত্য অনিয়ম মিথ্যা তথ্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-পরিপন্থী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে যথাযথ তদন্তপূর্বক তার পিএইচ.ডি ডিগ্রি বাতিলের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান অভিযোগকারী ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং শাপলা ফোরামের নেতারা।
এবিষয়ে প্রফেস ড.শাহিনুর রহমান বলেন,“আমার পিএইচ.ডির সব নিয়ম কানুন ঠিক আছে। একটি পক্ষ আমার বিরোধিতা করে শত্রুতা বশতঃ এসব বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
এমআইএস





