রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োকেটনোলজি বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি কোর্সের পরীক্ষা চতুর্থ বর্ষে গ্রহণ করা হয়েছে।

তৃতীয় বর্ষের বাকি কোর্সগুলোর পরীক্ষা গত বছরের জুনে অনুষ্ঠিত হলেও একটি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রায় এক বছর পর এসে গত মঙ্গলবার বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষার অংশ ২৫ নম্বরের ফিল্ড ওর্য়াক পরীক্ষা নিয়েছে বিভাগটি।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ বর্ষের শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা গত বছরের ৩১ জুন শুরু হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও পরীক্ষা ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। সম্প্রতি এ ফল প্রকাশের জন্য উদ্যোগ নেয় বিভাগটি।

শিক্ষার্থীদের ট্যাবুলেশন শিট তৈরি করতে গিয়ে পরীক্ষা কমিটি দেখতে পান ৩১৫ নাম্বার কোর্সের ২৫ নম্বরের ফিল্ড ওয়ার্ক (মাঠ পর্যবেক্ষণ) পরীক্ষা নেয়া হয়নি। এজন্য গত মঙ্গলবার ওই কোর্সের পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নোটিশ দেয়া হয়। ওই নোটিশের মাধ্যমে মঙ্গলবারই রাজশাহীর বিজ্ঞান ও তাঁত গবেষণা কেন্দ্রে ফিল্ড ওয়ার্কের আয়োজন করে বিভাগটি।

বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হঠাৎ করে গত মঙ্গলবার ফিল্ড ওর্য়াকের জন্য বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের চাপ দেয়া হয়। এছাড়া বিকাল ৩টার মধ্যে ফিল্ড ওর্য়াকের রির্পোট জমা দিতে বলা হয় শিক্ষার্থীদের। অল্প সময়ের মধ্যে রির্পোট জমা দিতে বলায় শিক্ষার্থীরা ভালভাবে রির্পোট জমা দিতে পারেননি। ফিল্ড ওর্য়াকের জন্য শিক্ষার্থীরা সাধারণত এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয় বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রন দপ্তর সূত্র জানায়, তৃতীয় বর্ষের ফিল্ড ওর্য়াক তৃতীয় বর্ষেই গ্রহণ করতে হবে। তৃতীয় বর্ষের ফিল্ড ওয়ার্ক চতুর্থ বর্ষের নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশের লঙ্ঘন।

জানতে চাইলে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বিশ্বনাথ শিকদার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তৃতীয় বর্ষে ফিল্ড ওর্য়াক করার পর তার রির্পোট জমা দেয়নি। এজন্য নতুন করে ফের ফিল্ড ওর্য়াকের আয়োজন করা হয়েছিল।

বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা গত বছরের ২ নভেম্বর থেকে শুরু হয়। এরপর প্রায় ৮ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় নি। ২০০৬-০৭ শিক্ষবর্ষের মাস্টার্সের ফলাফলও পরীক্ষার ৮ মাসপরও প্রকাশ হয় নি। এছাড়া আরও অন্যান্য বর্ষের একই চিত্র।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিভাগে ২৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭ জন শিক্ষক শিক্ষা ছুটিতে দেশের বাহিরে অবস্থান করছে। এছাড়া যেসব শিক্ষক আছেন, তারা রুটিন অনুযায়ী ক্লাশ-পরীক্ষা নেন না।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক অনিল চন্দ্র দেবের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঢাকা, ১৭ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর