জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলে ছাত্রলীগের এক পক্ষের হামলায় অপরপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে ছাত্রলীগের ভাসানী হল শাখার সাধারণ সম্পাদক অনিন্দ্য বাড়ৈই ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুন্নবী সমর্থকরা সভাপতি শাকিল সমর্থকদের কক্ষগুলোতে হামলা চালায় ও তাদেরকে মারধর করে।
এসময় হামলাকারীরা হলের ১৩টি কক্ষ ও বেশ কিছু ল্যাপটপ ভাংচুর করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, মওলানা ভাসানী হল শাখা সভাপতি শাকিল আহমেদ, সবুজ, রোকন, আকিব, সুজন, জহির, মারুফ, আরিফসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
এদের মধ্যে কবির ও সবুজকে সাভারের এনাম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শাকিল আহমেদকে এনাম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বাকিদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
হামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় হামলাকারীরা। যার কারণে শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ ও ক্লাসে যাওয়া থেকে আটকা পড়ে। সকালে একবার তালা খুলে দেয়ায় যারা বাহির হয়েছিল তারা পরে হলে প্রবেশ করতে পারেনি।
এদিকে হলে তালাবন্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ১১ ঘন্টা যাবৎ কোন ব্যবস্থা না নিলে ছাত্ররা হলের প্রভোস্টকে আটকে রাখে। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশুলিয়া থানা থেকে পুলিশ আনতে বাধ্য হয় এবং প্রায় ১৩ ঘন্টা পরে বিকাল ৫ টার দিকে হল তল্লাশী করে।
এরপরে সাধারণ ছাত্ররা হলে প্রবেশ করে। এসময় হল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় জিআই পাইপ, রড, হকিস্টিক ও রামদাসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু শাকিল সমর্থকরা এখনো হলে প্রবেশ করতে পারেনি। প্রক্টর হামলাকারীদের পূর্ণবাসন করে ফিরে গেছেন বলে অভিযোগ করেছে শাকিল সমর্থকরা।
আহত ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রক্টর ও ভিসি কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তীতে পড়েছে। ভিসিকে হলের প্রভোস্ট বারবার ফোন করলেও তিনি ১৩ ঘন্টা পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি এমনকি একবারও হলে আসেননি।
প্রক্টর তপন কুমার সাহা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকা, ২১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেএ





