রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের কলা অনুষদের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে ফল বিপর্যয়ের পর পাশ নম্বর ৩০ এর মধ্যে ২২ এর পরিবর্তে ১২ নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার ওই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যদের সাথে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। ওই ইউনিটের ফল গত শুক্রবার প্রকাশ করতে চাইলেও তাতে আরও পাঁচ থেকে ছয়দিন সময় লাগবে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, রাবির ‘এ’ ইউনিটের মোট ১০ টি বিষয়ের মধ্যে যারা ইংরেজি পেতে ইচ্ছুক তাদেরকে ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্রে ‘ক’ ও ‘গ’ অংশ পূরণ করতে বলা হয়। ‘ক’ অংশে ৩০ নম্বরের ইংরেজির মধ্যে পাশ নম্বর নির্ধারণ করা হয় ২২। তবে গত শুক্রবার সকালে উত্তরপত্র মূল্যায়নের পরে দেখা যায় ইংরেজির ১০০টি আসনে ৩০ নম্বরের মধ্যে ২২ পেয়ে পাশ করেন মাত্র ২৫ জন। এতে করে ওই ইউনিটের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে গিয়ে প্রশাসন পরেন বিপাকে। পরে এ-ইউনিটের পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে ৩০ নম্বরের মধ্যে ২২ এর পরিবর্তে পাশ নম্বর নির্ধারণ করা হয় ১২। এতে করে যারা ইংরেজিতে ২২ নম্বর না পাওয়ার ভয়ে ‘ক’ অংশ পূরণ না করে ‘খ’ ও ‘গ’ অংশ পূরণ করেছেন তাদের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা ইংরেজিতে ১২ পাওয়ার যোগ্য হলেও পরীক্ষায় ‘ক’ অংশ পূরণ না করায় ওই বিষয়ে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেন।    
কলা অনুষদের পরীক্ষা কমিটির এক সদস্য জানান, এবার ইংরেজি পাওয়ার জন্য পরীক্ষায় ‘ক’ ও ‘গ’ অংশ পূরণ করেন অন্তত ২ হাজার শিক্ষার্থী। আর ‘খ’ ও ‘গ’ অংশ পূরণ করেন অন্তত ২১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী। তবে ফল তৈরী করতে গিয়ে ইংরেজিতে ১০০টি আসন থাকলেও ২২ পেয়ে সেখানে পাশ করেন মাত্র ২৫জন শিক্ষার্থী। এছাড়াও ফল তৈরী করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক করি। সেখান থেকেই সর্বনিম্ন ১২ পাশ নম্বর নির্ধারণ করা হয়।
এই নতুন নিয়মের কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে কি না? জানতে চাইলে কলা অনুষদের ডীন আব্দুল হাই তালুকদার বলেন, আমরা ভর্তি পরীক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার কথা বললেও  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তা মানেননি। তিনি ইংরেজিতে যোগ্যতা কমিয়ে নতুন ভাবে উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা যেহেতু এর আগে অনেকবার পিছানো হয়েছে তাই নতুন করে আর পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই ওই অনুষদে ইংরেজিতে নম্বর কমিয়ে পুনরায় উত্তরপত্র মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবার ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি ফরম উত্তোলন করেছিলেন ২১ হাজার ১৬৮ জন শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার ওই ইউনিটের ১৩০ টি প্রশ্নে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা দুই শিফটে গ্রহণ করা হয়।