জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী নেতা ও জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাইমুমকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক জব্বার হল সংলগ্ন খাবার দোকানের এ ঘটনা ঘটে।

আর এ ঘটনায় পূর্ব ঘোষিত আলোচনা সভা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতাকে হল থেকে বিতাড়ন ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে তাৎক্ষণিক মিছিল করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের চাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মণ্ডল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শহীদ রফিক জব্বার হলের আবাসিক ছাত্র।

তবে ওই ছাত্রলীগ নেতা বলছেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার জন্য নয় বরং 'অন্য' কারণে তাকে মারধর করা হয়েছে।

মারধরের শিকার নুরুল ইসলাম সাইমুম বলেন, 'আমি সকালের নাস্তা করতে দোকানে যাই। এ সময় আমার মোবাইলে জরুরি কল আসে, রিসিভ করে কথা বলতে থাকি। কিন্তু পাশে বসে থাকা অভিষেক হঠাৎ আমার ওপর চড়াও হন। আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। আমি নিজের পরিচয় দেই। এসময় জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক বলার সাথেই তিনি আমাকে মারধর করা শুরু করেন। সাথে থাকা তার বন্ধু আমার হাত চেপে ধরেন। আর অভিষেক দোকানে থাকা কাঠ দিয়ে আমাকে মারধর করতে থাকেন। তবে তার সঙ্গে আমার পূর্ব কোনো শত্রুতা নেই। চলমান আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার কারণে মারধর করা হয়ে থাকতে পারে।'

মারধরের বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সাইমুম।

মারধরের কথা স্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা অভিষেক মণ্ডল বলেন, 'মারধরের সাথে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। সকালে আমি এবং আমার বন্ধু দোকানে নাস্তা করতে যাই। সাইমুম আমাদের টেবিলে বসে। কিন্তু সে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকে এবং দোকানের বাচ্চাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা শুরু করেন। আমি তখন তাকে অন্য টেবিলে যেয়ে বসতে বলি। কিন্তু সেটা না করে উল্টো আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করে। পরে তাকে মারধর করেছি। আমি জানতাম না সে আন্দোলনকারী বা থিয়েটার নেতা।'

এসএম