ফেসবুক টাইম লাইনে নাজমুলের শেষ লেখাটি ছিল ‘মানুষ মরে যায় কিন্তু থেকে যায় তার স্মৃতি। আসুন আমরা এই সুন্দর পৃথিবীর জন্য কিছু সুন্দর কাজ করে যাই। যা মানুষের জন্য উপকারী।’
গত তিন জুন শনিবার নাজমুল এই কথাগুলো ফেসবুক টাইম লাইনে লেখে। এর পর আর কোন পোস্ট সে করেনি। তার এই শেষ কথাগুলো কাঁদিয়ে যাচ্ছে সবাইকে। তার টাইম লাইনে প্রবেশ করে লেখাটি পড়ে চোখ পানি আটকে রাখতে পারছে না কেউ।
সবার সাথে ঈদের ছুটি কাটাতে শুক্রবার রাতে বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নামজুল। রাতের বাসে টিকেটও কেটেছিল। শুক্রবার রাতেই নাজমুল বাসায় গিয়েছে কিন্তু সেই গাড়িতে না। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো লাগানো এম্বুলেন্স আর বাস ভর্তি সহপাঠি নিয়ে।
গত মে মাসের প্রথম দিন আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে বিনা পারিশ্রমিকে এক গরিব কৃষকের ধান কেটে মাথায় করে বাসায় এনে দেয় নাজমুল ও তার বন্ধুরা।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ব্যপক আলোচনা হয় তাদের নিয়ে। এমন একটি মহৎ এবং সৃষ্টিশীল চিন্তার বাস্তবায়ন করে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসতে থাকে নাজমুল ও তার বন্ধুরা।
ছয় মেয়ে চার ছেলে ও এক স্ত্রী নিয়ে সংসার সাঁজিয়েছিল নাজমুলের বাবা আদম আলী মুলল্লি। দুই মাস আগে স্বামী, ছেলে-মেয়ের মায়া ত্যাগ করে পরকালে তরী ভেঁড়ায় নাজমুলের মা।
স্ত্রী বিয়োগের দুই মাসের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আদরের ছোট সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায় বাবা আদম আলী। মিষ্টি কথা আর মুখভরা হাসি দিয়ে অল্প বয়সে জয় করেছিল গ্রামের সাধারণ মানুষের মন। নাজমুলকে চির বিদায় জানিয়ে তারাও আজ নিরব। নিস্তব্ধ গ্রাম।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ইবি শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান জীবনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিজ গ্রাম করাতি পাড়ায় মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো নাজমুল।
শেষ বিদায় জানাতে যাওয়া সহপাঠিরাও নীর্বাক। শুধু চোখেল জলে বুক ভাসিয়ে সহ্য করতে হচ্ছে ভাই হারানোর বেদনা। পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দিতে গিয়ে নিজেরাই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলছে বার বার।
করাতি পাড়ায় নেমে এসেছে শোকের ছায়াঁ। মা হারা পরিবারের ছোট সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বড় ভাই-বোনরা। আদরের ছোট ভাইকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেছে তারা।
গত শুক্রবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে ক্যাম্পাস পার্শবর্তী মধুপুর এলাকায় মটরসাইকেলের সাথে নসিমনের সংঘর্ষে সে নিহত হয়। নাজমুলের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজিপপুর উপজেলায়।
সে করাতিপারা গ্রামের আদম আলী মুসুল্লির ছেলে। নাজমুল ইবির আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।
হিমেল/জেড





