জাহাঙ্গীরনগর (জাবি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে চাকরি পাওয়া ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল আহমেদ দীপুকে কাজে যোগদান করতে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে দীপুকে তার কর্মক্ষেত্রে যোগদানে উপাচার্যকে আগামী বুধবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এছাড়া দীপুকে যোগদানের সুযোগ না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুমকিও দেওয়া হয়।

সোমবার দুপুরে দীপুকে কর্মক্ষেত্রে যোগদানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহমেদ রাসেল দেড় শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কার্যালয়ে যান। তারা উপাচার্যকে আগামী বুধবার পর্যন্ত সময় বেধে দেন।

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির বিতর্কিত চার ছাত্রলীগ নেতাসহ ছয়জনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের দীপু বাদে সবাই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেছেন।

জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার মধ্যে কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৪ ছাত্রলীগ নেতাসহ ৬জনকে নিজ ক্ষমতাবলে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেন অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

নিয়োগ পাওয়া ছয়জনের মধ্যে সোমবার পাঁচজন কাজে যোগদান করেন। তবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে চাকরি পাওয়া শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল হোসেন দীপুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ থাকায় এ দিন তাকে কাজে যোগদান করতে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

দীপু বলেন, ‘আমি এ পদের জন্য অযোগ্য নই। আমি শিক্ষক রাজনীতির শিকার। ছাত্রলীগ করেও যদি এই সরকারের অধীনে নিয়োগ না পাই, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোন সময় বেঁধে দেইনি। তবে মৌখিকভাবে আগামী বুধবারের কথা বলা হয়েছে।’ 

প্রক্টর টিমের সদস্যরা সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

‘প্রয়োজন নেই তবু অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়াটা’ উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের প্রতিফলন বলে এ নিয়োগের প্রতিবাদ করেছেন বামপন্থী এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন। গত ১২ জুলাই ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল হোসেন দ্বীপুকে নিয়োগ না দিতে প্রায় ৩৫ জন শিক্ষক উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় শিক্ষকরা দীপুকে শিক্ষকের ওপর হামলাকারী অভিহিত করে নিয়োগ না দিতে উপাচার্যকে অনুরোধ করেন।

ফয়সাল হোসেন দীপুর বিরুদ্ধে হল ক্যান্টিন মালিককে মারধর, ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ নেতাকর্মীদের উপর হামলা, সংঘর্ষ, ভাংচুরসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

এএইচ