রংপুর কারমাইকেল কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণে বর্ধিত ফি কমানোর দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এসময় স্থানীয় এক সাংবাদিক, ছাত্রফন্ট নেতাসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে এ হামলা চালানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে কারমাইকেল কলেজে বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্টের নেতৃত্বে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলন চলছিল। শনিবারও তারা প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চালায়।

রোববার দুপুরে আন্দোলনের অংশ হিসেবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে অগ্রণী ব্যাংকের সামনে যায়। এসময় সেখানে আগে থেকেই কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর বিনতে হুসাইন নাসরিন বানুসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানকারী ক্যাম্পাস ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আবু রায়হান বকসি জানান, আমরা মিছিল নিয়ে ব্যাংকের সামনে যাওয়া মাত্রই অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে জেলা ছাত্রলীগেরসহ সভাপতি নুর আলমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ছবি তুলতে গিয়ে দৈনিক বায়ান্নোর আলোর কারমাইকেল প্রতিনিধি আনোয়ারুল ইসলাম, ছাত্রফ্রন্টের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইমরান, প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের প্রিয়াংকা, শাপলা, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের নিয়াজ এবং পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাইদ আহত হন।
আহতদের মধ্যে ৩ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার জানান, অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নগ্ন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমরা বড় ধরনের আন্দোলনে যাবো।
তিনি বলেন, বর্ধিত ফি না কমানো পর্যন্ত আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না।

তবে হামলার ঘটনাটিকে বাম ছাত্রসংগঠনগুলো ছাত্র শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে দাবি করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি নুর আলম জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীরা শনিবার আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলেও ক্যাম্পাসের বাম সংগঠনগুলো ছাত্র শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য মিছিল নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে ফরম পূরণে বাধা দেয়। এ সময় ফরম পূরণকারীদের সাথে বাম সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধ্বস্তাধস্তি হয়। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

অন্যদিকে কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর বিনতে হুসাইন নাসরিন বানু জানান, শনিবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমার সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কিন্তু তারপরেও রোববার সকালে বাম ছাত্রসংগঠনগুলো মিছিল নিয়ে ব্যাংক ভবন ঘেরাও করে ফরম পূরনে বাধার সৃষ্টি করে। এ সময় ফরম পূরনকারীদের সঙ্গে তাদের ধ্বস্তাধস্তি হয়। পরে আমি সেখানে গিয়ে ছাত্রনেতাদের ডেকে বিষয়টি সমাধান করে দেই।

জেএ