জাতীয়করণ হওয়া কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডারে আত্তীকরণ বিধি বাতিলসহ তিন দফা বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার মর্যাদা রক্ষা কমিটি। গতকাল বুধবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এ হুমকি দেন।


কমিটির আহবায়ক এসএম কামাল আহমেদ বলেন, আমরা কলেজ সরকারিকরণের বিরুদ্ধে নই। সরকারিকৃত কলেজগুলোর শিক্ষকদের চাকরি সরকারিকরণেও আমাদের আপত্তি নেই। আমাদের আপত্তি কেবল তাদের ক্যাডারভুক্তিতে।

তাই জাতীয়করণ হওয়া নতুন কলেজ শিক্ষকদের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির জন্য আলাদা বিধিমালা করতে হবে। বিধি বহির্ভূতভাবে ১৫ হাজার শিক্ষককে ক্যাডারভুক্ত করার সিদ্ধান্তও বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি।

কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শওকত হোসেন বলেন, জাতীয়করণ হওয়া নতুন কলেজ শিক্ষকদের শিক্ষা ক্যাডারে আত্তীকরণ বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া বদলি বন্ধ করার পাশাপাশি নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। আমাদের দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না। তাই তিনি অনুরোধ করে বলেন, আমাদের আন্দোলনে নামাবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনকালে কমিটির সদস্য সচিব বলেন, জাতীয়করণ হওয়া কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডারভুক্ত করে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০’ লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এতে ক্যাডার শিক্ষকদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে জাতীয়করণ করা কলেজের শিক্ষকদের জন্য নতুন বিধিমালা করার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

ফলে জাতীয়করণ কার্যক্রম বিতর্কিত হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনকে পাশ কাটিয়ে কোনো নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়াই জাতীয়করণ হওয়া ৪৫টি কলেজের সব শিক্ষককে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্তের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জাতীয়করণের জন্য চূড়ান্ত ২৮৩ কলেজে কর্মরত ১৫ হাজার শিক্ষককে একই প্রক্রিয়ায় শিক্ষা ক্যাডারে আত্তীকরণের চেষ্টা চলছে, যা ক্যাডার সার্ভিস সংক্রান্ত বিধি বিধানের পরিপন্থী। বিসিএস শিক্ষা সমিতি এ সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

সংবাদ সম্মেলনে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার মর্যাদা রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। প্রথমত, কোনো কলেজ জাতীয়করণ করার আদেশের আগেই ২০০০ বিধিসহ ক্যাডারে আত্তীকরণ সংক্রান্ত সকল বিধি বাতিল করে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এবং বিসিএস নিয়োগ বিধি ১৯৮১ এর নিয়ম মেনে জাতীয়করণের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডার-বহির্ভূত রেখে তাদের নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি সংক্রান্ত আলাদা বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ জাতীয় সংসদে অনুমোদনের পর বিধিমালা প্রণয়ন ছাড়া যে সব কলেজ জাতীয়করণ করা হয়েছে সে সব কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডার বহির্ভূত রাখতে হবে।

আর তৃতীয়ত, জাতীয়করণের পর সংশ্লিষ্ট কলেজ শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানেই থাকতে হবে, অন্যত্র বদলি হতে পারবেন না মর্মে প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন প্রদান করার পরও সদ্য জাতীয়করণকৃত কলেজের যে সব শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে তাদের বদলির আদেশ বাতিল করতে হবে।

এএস