মহান ভাষা শহীদদের স্মরণ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম- এ অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ কর্মসূচি।
একুশের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান্যবর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নতুন প্রতিষ্ঠিত শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো পুস্পস্তবক অর্পণ করে আইআইইউসি পরিবার। এরপর একে একে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার, সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলী এবং আবাসিক হলের সম্মানিত প্রভোস্টদের নেতৃত্বে ছাত্ররা পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। দিনের শুরুতে উপ-উপাচার্যের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় প্রভাত ফেরি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন বলেন কেবলমাত্র রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নয় বরং সর্বস্তরের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে সর্বক্ষেত্রে নিজ নিজ মাতৃভাষার শুদ্ধ চর্চা ও প্রয়োগের উন্মেষ ঘটাতে। মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সুন্দর ভাষাভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে। সেই সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভাবে প্রচলিত ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভাষা সমূহেরও সঠিক চর্চার উপর গুরুত্বারোপ করেন। এবং অবশ্যই অন্যদের তাদের নিজ নিজ মাতৃভাষা চর্চার সুযোগ করে দেওয়া।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত ট্রাস্টি ও ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসানউল্লা নিজ নিজ মাতৃভাষার সঠিক চর্চা ও রাষ্ট্রীয় যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। যাতে করে আমরা নিজ নিজ ভাষাকে অবহেলা করে অন্য ভাষায় লোক দেখানো আধুনিক সাজার চেষ্টা না করি। সেই সঙ্গে ভাষায় কথা বলার অধিকারের পাশাপাশি মনের ভাবে স্বাধীনভাবে প্রকাশেরও আবশ্যকীয়তার উল্ল্যেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্টার কর্ণেল (অবঃ) মুহাম্মদ কাশেম ভাষার যথাযথ প্রয়োগ ও ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
অপর বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শফিউদ্দিন মাদানী বলেন মাতৃভাষা আল্লাহর এক অনন্য নেয়ামত। যা দিয়ে মানুষ নিজের মনের ভাব প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্রষ্টার আনুগত্য প্রকাশ করতে পারে। এবং যাঁরা মনের ভাব তথা মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার ও আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করতে গিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করেছেন তাঁরা শহীদের মর্যাদাপ্রাপ্ত।
সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আবদুল হামিদ চৌধুরি বলেন আমরা চাইলেও মাতৃভাষায় সম্পূর্ণরূপে কথা বলতে পারি না। কোন না কোন ভাবে বিদেশি শব্দের সংমিশ্রণ ঘটে যা মূলত ভাষার গতিপ্রবাহের কারণেই হয়ে থাকে। তবে তাই বলে একবারে গড্ডালিকায় গা না ভাসিয়ে বাংলাদেশী হিসেবে সঠিক বাংলা চর্চা ও যথাযথ প্রয়োগের উপর গুরুত্বআরোপ করেন।
পরিশেষে দোয়া পরিচালনা করেন হযরত উমর (রা.) হলের প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
মাসুম/নাজিব





