'ঘড়ি বালক' হিসেবে খ্যাতি পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আহমেদ মোহাম্মদকে সন্ত্রাসী হিসেবে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার ঘটনায় তার পরিবার ম্যাকআর্থার স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাড়িতে বানানো একটি ঘড়ি স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে
জিজ্ঞাসাবাদ করে তিন দিনের জন্য বহিষ্কার করে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এসব ঘটনার মাধ্যমে আহমেদের নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
আহমেদকে নিগ্রহের ঘটনার জের ধরে তার পরিবার গত বছরের অক্টোবরে কাতারে চলে যান। এবার গ্রীষ্মের পর তারা টেক্সাসে ফিরে আসেন।
এরপর তারা টেক্সাসের বিখ্যাত আইনি প্রতিষ্ঠান 'হাচিংসন অ্যান্ড স্টয়'-এর মাধ্যমে ইরভিংয়ে ম্যাকআর্থার স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায়, স্কুলটির বিরুদ্ধে মুসলিম বিরোধী মনোভাব পোষণ, ইতিহাসের রাজনীতিকরণ এবং ছাত্রদের শৃংখলা রক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বর্ণবাদী বৈষম্যকে অব্যাহত রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাটিতে কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্রদের বিরুদ্ধে শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে নেয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপক সংখ্যক ঘটনা এবং ইরভিংয়ে মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়েছে, আহমেদকে বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চিহ্নিত করে তার সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি আহমেদ বলেছেন, 'আমি নিজের নিষ্পাপ-নিরাপরাধ পরিচয়টি হারিয়ে ফেলেছি। আমি এখন আগের মতো পৃথিবীর দিকে একইভাবে তাকাতে পারি না। আমি বিজ্ঞান পছন্দ করি। কিন্তু, আমি নিজের গায়ের বর্ণের কারণে হুমকি অনুভব করি।'
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিজের তৈরি করা একটি ঘড়ি শিক্ষকদের দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন ম্যাকআর্থার স্কুলের নবম গ্রেডের শিক্ষার্থী আহমেদ। কিন্তু, তার ঘড়িটিকে বোমা ভেবে পুলিশে খবর দিলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় সে সময় বিশ্বজুড়ে প্রচণ্ড প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ব্যবহারকারীরা আহমেদের সমর্থনে 'আই স্ট্যান্ড উইথ আহমেদ' ও 'ইঞ্জিনিয়ার্স ফর আহমেদ' হ্যাশট্যাগ দিয়ে লাখ লাখ ক্ষুদে বার্তা ছাড়ে।
অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিও আহমেদের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিবৃতি দেন। তাদের মধ্যে ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গও ছিলেন। পরে অবশ্য তাকে বাবা-মার জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আহমেদকে তার বানানো ঘড়ি নিয়ে হোয়াইট হাউসে দেখা করার আমন্ত্রণ জানান।
ওই ঘটনার পর টাইম ম্যাগাজিনের করা ২০১৫ সালে বিশ্বের প্রভাবশালী ৩০ কিশোর-কিশোরীর তালিকায় উঠে আসে আহমেদের নাম।
ঘড়িকাণ্ডের পর আহমেদ আর ম্যাকআর্থার স্কুলে ফিরবেন না বলে তার পরিবার জানায়। পরে ১৪ বছর বয়সী আহমেদ কাতারের দোহায় চলে যান।
সেখানে কাতার ফাউন্ডেশনের দেয়া শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক মেধাবৃত্তি নিয়ে তিনি সেখানেই পড়াশোনা করছেন। এই ফাউন্ডেশন আহমেদকে মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত পূর্ণ মেধাবৃত্তি দিয়েছে।
এমবিএইচ





