সময় থাকতে ছাত্রলীগের ‘বেপরোয়া ও লাগামহীন গতি’ টেনে ধরতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে যে নির্যাতন এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটিত হচ্ছে সেখানে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে। এসবের প্রমাণ থাকার পরেও বিচার না করার মধ্য দিয়ে তা প্রকাশ পায়। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলো অন্যায় করলে টুঁ শব্দ পর্যন্ত করে না এ প্রশাসন।
অথচ জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থীদের এমন ভয়াবহ নির্যাতনের পর প্রশাসন বলে কিছু হয়নি, সামান্য হইচই হয়েছে। এ হচ্ছে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র।
ভিপি নূর বলেন, পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন মত দমনের লক্ষ্যে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ডাকসু এবং হলে এমন সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঘটিয়েছে।
আমরা প্রশাসনের কাছে বলতে চাই, অনেক হয়েছে, এবার আপনাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করুন এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। না হলে ছাত্রসমাজ আপনাদের ছাড়বে না।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের শুধু নিজের কথা ভাবলে চলবে না। নির্যাতনের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে। পাবলিকের টাকা দিয়ে আমরা পড়ালেখা করছি তাদের জন্য হলেও আমাদের লড়তে হবে।
আজ আমি, কাল আপনিও এ নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। সুতরাং তার আগেই প্রতিবাদ করুন।
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে মঙ্গলবারের নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে নুরু বলেন, জহুরুল হক হলের চারজন শিক্ষার্থীকে মেরে রক্তাক্ত করে হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকানা প্রশাসনের প্রক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে ছাত্রলীগ থানায় দিয়েছে।
ওই চার ছাত্রের কোনো অপরাধ ছিল না। ছাত্রলীগ তাঁদের মারল আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের থানায় দিল।
ছাত্র সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিরা ইসলাম,গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি রাহাত আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম, সাবেক সদস্য জাহিদ রায়হান তাহরাত লিওন, সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, শ্রমিক নেতা বাচ্চু মিয়া প্রমুখ।
এএস





