মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসায় স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন-২০১৫ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ আগস্ট। ওই দিন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়ে তাদের মধ্য থেকে নেতা নির্বাচিত করবে। সেদিন সারা দেশে সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। তফসিল অনুসারে গত ২৭ জুলাই প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'এ বছর ৪৮৭টি উপজেলা ও আটটি মহানগরের ১ হাজার ৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই নির্বাচন হবে। এর মধ্যে ৪৯৫টি মাধ্যমিক স্কুল, ৪৮৭টি দাখিল মাদ্রাসা ও ৬১টি কারিগরি স্কুল রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী বছর থেকে সারা দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হবে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন।'
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের মতোই ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, ভোটকেন্দ্র থাকবে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে।
প্রত্যেক ভোটার প্রত্যেক শ্রেণিতে একটি ও সর্বোচ্চ তিনটি শ্রেণিতে দুটি করে মোট আটটি ভোট দিতে পারবে। প্রত্যেক শ্রেণি থেকে একজন করে পাঁচটি শ্রেণি থেকে পাঁচজন এবং পরবর্তী সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত তিন শ্রেণি থেকে আরো তিনজন নিয়ে আটজনের স্টুডেন্টস কেবিনেট গঠিত হবে।'
এ কেবিনেটের মেয়াদ হবে এক বছর। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারের আদলে হবে স্টুডেন্ট কেবিনেট। এই কেবিনেটের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজেদের ভেতর থেকেই একজনকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করবে।
শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই নির্বাচন কমিশনার, প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট হবে। তবে এ নির্বাচনে কোনো প্রতীক ব্যবহৃত হবে না।
নির্বাচনে মুদ্রিত পোস্টার, ফেস্টুন, লিফলেট ব্যবহার করা যাবে না। হাতে লেখা পোস্টার, ফেস্টুন, লিফলেট ব্যবহার করা যাবে। নিজ নিজ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা নির্বাচনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন।
দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে হাই স্কুল, মাদ্রাসা ও টেকনিক্যাল স্কুলকে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
যেসব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল নেই সেখানে একাধিক হাই স্কুলকে মনোনীত করা হয়েছে। এই হিসাবে ৪৮৪টি উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৪৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ আগস্ট স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন হবে। ভোটার আছে ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫৩২ জন এবং প্রার্থী হয়েছে ১৫ হাজার ৮৪৩ জন শিক্ষার্থী।
উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে শিশুকাল হতে শিক্ষার্থীদের মনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে এ ধরনের কেবিনেট গঠন কার্যক্রম চলছে।
এমকে





