কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ত্রবাজ ছাত্রলীগ ক্যাডার ও ইবি ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক সজিবুল ইসলাম সজীবকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। একইসাথে সজীবের অস্ত্রবাহক হিসেবে পরিচিত সালাউদ্দিনকেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় প্রশাসন ভবনের ভিসির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মতিয়ার রহমান এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তিন নম্বর সহ-সভাপতি, বিসিএস ক্যাডার (ইকোনমি) আজিজুল হক মামুনকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণ প্রদানের অভিযোগে এই দুই ছাত্রলীগ নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত সজীব ইবির আইন ও মুসলিম বিধান বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষ এবং সালাউদ্দিন একই বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।
শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণের ঘটনার তদন্তে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক এবং ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. রুহুল কে এম সালেহকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কে এম শরফুদ্দিনকে তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, বার বার ক্যাম্পাসে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারকারী ছাত্রলীগ নেতা সজীবকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করার সিদ্ধান্তে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।
উল্লেখ্য, সোমবার বেশ কয়েকটি জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকায় ইবি ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক সজিবুল ইসলাম সজীবের অস্ত্র প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়।
অস্ত্র প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের এ সকল ছবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক, ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মতিয়ার রহমান এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তিন নং সহ-সভাপতি, বিসিএস ক্যাডার (ইকোনমি) আজিজুল হক মামুনকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতে দেখা গেছে।
অস্ত্র প্রশিক্ষণার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মতিয়ার রহমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ইতিপূর্বে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম মামুন ইবির গণিত বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের ছয় মাস পর বিসিএস ক্যাডার (ইকোনমি) পদে যোগদান করেছেন বলে জানা গেছে।
একটি স্টিলচিত্রে দেখা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি নির্জন স্থানে সজীবের কাছে থেকে নাইন এমএম অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ওই বিসিএস ক্যাডার আজিজুল হক মামুন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক মতিয়ার রহমান।
তাদের পাশে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছেন ছাত্রলীগ নেতা সজিব ও সজীবের সহযোগী অস্ত্রবাহক ইবির আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সালাহউদ্দিন।
বিসিএস ক্যাডার আজিজুল হক মামুন ও শিক্ষক মতিয়ার রহমান উভয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় ইবি ক্যাম্পাসেও তারা ছিলেন আলাদাভাবে পরিচিত।
ইবি সূত্রে আরও জানা যায়, সজীব বহু দিন ধরে অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি সব সময়ই ক্যাম্পাসে কমপক্ষে দুটি করে অস্ত্র এবং ৪০ রাউন্ড গুলি বহন করেন। যে কারণে দলের বহু কর্মী তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপও কামনা করেন ইবি ছাত্রলীগের অনেক নেতা।
বর্তমানে ইবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের পদে থাকায় সজীব নির্ভয়ে অত্যাধুনিক সব অস্ত্রের ব্যবসা, নারী কেলেঙ্কারিসহ মাদক ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুধু এ সকল অবৈধ ব্যবস্যাই নয়, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা- থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বিসিএস ক্যাডারসহ নানা শ্রেণির লোককে অস্ত্র প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সংলগ্ন এলাকার নির্জন ঝোপঝাড়, বাগান, ক্ষেত ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাচীর সংলগ্ন মফিজ লেকের নির্জন এলাকায় নিয়মিত অস্ত্র প্রশিক্ষণ চলছে। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা সজিবুল ইসলাম সজীব।
আর এ কারণেই সজীবের কাছে ঢাকা থেকে অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ নিতে আসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক মতিয়ার রহমান। তার বাসা কুড়িগ্রাম জেলায়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষক মতিয়ার এর আগে ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন।
এ বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন-‘পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে দুই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর অভিযুক্তদের চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।’
কুষ্টিয়া, ৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেবি





