জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয়ে থাকে প্রকৃতির স্বর্গ। নগরজীবনের কোলাহলমুক্ত প্রকৃতির এক নান্দনিক সৌন্দর্যের মাঝে অবস্থিত দেশের একমাত্র এই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়টি জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে একক বৈশিষ্ট্যের দাবিদার।
প্রতি বছর শীত মৌসুমে অতিথি পাখির আগমন, লাল পদ্ম ফোটা লেকের পানিতে ডুবসাঁতার আর কিচিরমিচির শব্দ, রাতে শিয়ালের হাঁকডাক, গুইসাপের স্বাধীনচেতা ঘোরাফেরা, প্রজাপতি সহ অন্যান্য পোকামাকড়ের ওড়াউড়ি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুণ।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই প্রকৃতিকেই ধ্বংস করার কাজে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কোন প্রকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়াই নিজেদের মনমতো যেখানে সেখানে গাছ কেটে গড়ে তুলছে বিভিন্ন স্থাপনা। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার প্লানের সাথে আকাশ- পাতাল ফারাক। এতে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ।
এসব অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রাণ বৈচিত্র্য রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
রবিবার বেলা পৌনে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গার স্বল্পতা রয়েছে এটা যেমন ঠিক তেমনি গাছ কেটে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ চলছে এটিও ঠিক। তাই আমাদের ভূপ্রকৃতি বাঁচিয়ে পরিকল্পিতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে।
তিনি প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নির্বাচনে জয় লাভের জন্যই বিভিন্ন বিভাগের দাবি মোতাবেক এসব ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তার ভবিষ্যতের প্রভাব সম্পর্কে চিন্তা করা হচ্ছে না। তাই এই ক্যাম্পাসের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এসব হঠকারি সিন্ধান্ত বিবেচনা কার দরকার।
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, ‘প্রশাসন জাবির প্রকৃতিকে ভূমি, নদী ও সুন্দরবন দখলকারীদের আগ্রাসনের ন্যয় আক্রমন করতে চাচ্ছে। দখলদারদের মতো এসব আচরণ এখনই বন্ধ করে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করুন।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি সংসদের আহ্বায়ক মশিউর রহমান বলেন, ‘আগাছা পরিষ্কারের নাম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছপালা আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে কোনও গাছ লাগানো হচ্ছে না। ব্যবসায়িক স্বার্থে মাস্টারপ্ল্যানের তোয়াক্কা না করে নতুন নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। অবিলম্বে এগুলো বন্ধ করতে হবে।’
মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের মুখপাত্র দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন তুহিন, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. শামছুল আলম সেলিম, ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনিছা পারভীন জলি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাইয়ান/জারিফ





