গণরুম ছেড়ে উপাচার্যের বাসায় উঠতে তার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। তারা উপাচার্যের বাসার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকতের নেতৃত্ব গণরুমের শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।
১৫ কার্যদিবসের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন এই নেতা। গতকাল শেষ হয়েছে সেই ১৫ দিন। কিন্তু সংকট সমাধানে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।
এক পর্যায়ে উপাচার্যের বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে শিক্ষার্থীদের বাধা দেয় নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা।
এসময় তারা কাঁথা, তোষক, বালিশ, কম্বল নিয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। গণরুম সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
‘যাচ্ছি পচে গণরুমে, এখানে নাকি স্বপ্ন জমে’, ‘গণরুমের বঞ্চনা মানি না মানব না’, ‘গণরুমে আমরা থাকি, প্রশাসন খায়-দায় ঘুমায় নাকি’, ‘আমরা এখন চুপসে গেছি, জ্ঞানশূন্য কালোমাছি’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন।
গণরুম বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখপাত্র ও ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বলেন, উপাচার্য আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক। গণরুমের বঞ্চনা সহ্য করতে না পেরে আমরা উপাচার্যের বাসায় উঠতে এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে উপাচার্য আমাদের সঙ্গে অভিভাবকসুলভ আচরণ করেননি। তাই বাধ্য হয়ে তার বাসভবনের সামনেই অবস্থান নিয়েছি।
এই অবস্থায় আজ ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন গণরুমের শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সৈকত নিজের রুম ছেড়ে দিয়ে গণরুমে উঠেন। এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি।
এছাড়াও সৈকত ছাত্রত্ব বাতিলের কড়া বার্তা পান প্রক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর কাছ থেকে। তারপরও এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
তার নেতৃত্বে আজ সকাল ১০ টার দিকে ভিসির বাসভবনে থাকার উদ্দেশ্যে সেখানে যান শিক্ষার্থীরা।
এ সময় ভিসি বাসভবনে নেই জানিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। পরে তারা ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। প্রক্টরের সঙ্গে দেখা করার আগ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করবেন বলে জানান ডাকসু সদস্য তানবীর হাসান সৈকত।
এ ব্যাপারে তানবীর হাসান সৈকত বলেন, ভিসি স্যারকে আমরা সময় বেধে দিয়েছিলাম। কিন্তু স্যার আমাদের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখাতে পারেনি।
তাই আমাদের সমস্যা সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা ভিসি স্যারের বাসায় থাকবো। যোগাযোগ করা হলে ভিসি গতকাল বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এমন উস্কানিতে সাড়া দেবে না।
এএস





