সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করেই আবারও জনবল নিয়োগ করতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আজ (শনিবার) ডেপুটি রেজিষ্ট্রার ও ডেপুটি কন্ট্রোলারসহ ১৬টি ডেপুটি পদে লিখিত পরীক্ষাও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এরআগেও কর্তৃপক্ষ এসব পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলে চাকুরিচ্যুত ১২ শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারিদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে মামলা করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজের কাছে মামলাটি দায়ের করা হলে বিচারক মামলা শুনানির জন্য আপীল বিভাগের পূর্নাঙ্গ বেঞ্চে পাঠায়।
২০১৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলার শুনানি হওয়ার কথা। তবে, মামলাটি অদ্যাবদী কার্য-তালিকায় না আসায় শুনানি হয়নি। এদিকে, মামলায় নতুন লোকবল নিয়োগ না করার জন্য আবেদনে বলা হয়।
কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলার নিস্পত্তির অপেক্ষা না করেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দেয় পত্রিকায়।
আবেদনের জন্য সময় দেয়া হয় মাত্র ১৬দিন। অর্থাৎ ২১ নভেম্বরের মধ্যে ইচ্ছুক প্রার্থীদের আবেদন করতে সময়সীমা বেধে দেয়া হয় যাকে অনেকেই অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো বলেই মন্তব্য করেছেন।  কারণ সরকারি ছুটিসহ নানা কারণে এই স্বল্প সময়ে অনেকেই আবেদন করতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে, সবচেয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠে ইন্টারভিউ কার্ড ছাড়ার প্রক্রিয়া ও পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বিষয়ে। কর্তৃপক্ষের চরম অনিয়ম ও দলীয়করণের বিষয়টিও পরীস্কার হয় এতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ আবেদনকারীদের জন্য পরীক্ষার কার্ড ইস্যু করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কার্ড ইস্যুর মাত্র ১০ দিনের মাথায় আজ (৫ এপ্রিল-শনিবার) পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়। এই ১০ দিনের মধ্যে আবার ৫দিনই ছিল সরকারী ছুটি (২৬, ২৮ ও ২৯ মার্চ এবং ৪ ও ৫ এপ্রিল)।
এমন তাড়াহুড়ার কারণে সারা দেশের অনেক আবেদনকারীই ইন্টারভিউ কার্ড পায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দলীয় বিবেচনায় এবং ঘুষ বাণিজ্য করে যাদের নিয়োগের জন্য পূর্বেই ঠিক করে রেখেছেন তাদেরকে টেলিফোনে ইন্টারভিউ কার্ডের কথা জানিয়ে দেয় এবং এভাবে শুধুমাত্র পছন্দের প্রার্থীদের নিয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এরপরও পরীক্ষা অনুষ্ঠানেও কর্তৃপক্ষ চরম অব্যবস্থাপনার আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীদের দুই ভাগে ভাগ করে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। যারা একসময় বিশ্ব বিদ্যালয়ে ছিলেন এরকম প্রায় শ খানেক ইন্টারনাল প্রার্থীদের আলাদা পরীক্ষা নেয়া হয়েছে এবং ১২১ জন এক্সটারনাল পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদা কক্ষে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি রক্ষা কমিটির আহবায়ক নুরুল আমীন টাইম নিউজবিডিকে জানান, শত শত লোককে অবৈধভাবে চাকুরিচ্যুত করা হলো। সেই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তার কোন সুরাহা না করেই কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দলীয়করণের হীন উদ্দেশ্যে লোক নিয়োগের এমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা নজীরবিহীন। বিষয়টি নিয়ে তারা আবারও উচ্চ আদালতে যাবেন বলেও জানান নুরুল আমিন।
এদিকে, এসব অনিয়মের মধ্যেই আগামীকাল (রোববার) সহকারী রেজিষ্ট্রার পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষার কথা রয়েছে। সেই পরীক্ষাও চরম অনিয়মের মধ্যেই হতে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।  
এদিকে, এ বিষয়ে জানতে বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ ও রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল হোসেনের মুঠো ফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।  
[b]ঢাকা, ৫ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি [/b]