দুই মেয়ে ও দুই ছেলের পড়াশোনার পেছনে মাসের উপার্জনের বড় অংশ যায় কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের। তার চার সন্তান পড়ছে একাদশ, দশম, সপ্তম ও প্রথম শ্রেণিতে।

আনিছুর রহমানের মতে, সবকিছুর দাম বাড়ায় একার উপার্জনে সংসার চালাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভাবতে হচ্ছে এই অভিভাবককে।

তার ভাষায়, ‘বাজারে দাম বাড়ে নাই এমন জিনিস খুব কমই খুঁজে পাবেন। কিন্তু আমাদের ইনকাম বাড়ছে না। সাধারণ মানুষকে চলতে হচ্ছে কৌশল করে।’

তিনি আরও বলেন, শুনতে মনে হবে কম টাকা বেড়েছে। কিন্তু বাসা ভাড়া, স্কুলের বেতন, কোচিং ফি, দ্রব্যমূল্য- সব যেভাবে বাড়ছে তাতে বাচ্চাদের আগের মত ভালভাবে পড়ানো সম্ভব হবে না।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, আগে এক রিম কাগজ কিনতে খরচ হতো ৩২০ টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৬শ টাকার বেশি। এ-৪ সাইজের কাগজের দাম আগে ছিল ৫০ পয়সা এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা। নিউজপ্রিন্ট, কার্টিজ পেপার, ব্রাউন পেপার, মাউন্ট বোর্ড, মেটালিক পেপার, হ্যান্ডমেইড পেপার, ফটো পেপার, ক্যালেন্ডার পেপারসহ সব ধরনের দেশি-বিদেশি কাগজের দাম বেড়েছে। প্রতিটি কাগজের দাম খুচরায় বেড়েছে ১০ থেকে ৫০ শতাংশের মতো।

এসময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষা উপকরণের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান।

এদিকে বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, করোনা মহামারী কাটিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর থেকেই কাগজসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণের দাম বাড়ছে। কয়েক দফায় দাম বাড়ায় বড় প্রভাব পড়েছে বাজারে।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, দাম বাড়ার পাশাপাশি কিছু শিক্ষা উপকরণ এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষ প্রতিবেদন/এমআই