রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রয়াত শিক্ষক প্রফেসর ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকীর কন্যা রিজওয়ানা হাসিন শতভি বলেন, একের পর এক হত্যা হবে আর বিচার হবে না, এমনটি হতে পারে না। এসব হত্যাকারীদের বিচার না হওয়ায় হত্যাকাণ্ড করতে সাহস পাচ্ছে। দেশে যেভাবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, যদি এই সংস্কৃতি বন্ধ না করতে পারি। তখন শুধু ১৪ ডিসেম্বরই বুদ্ধিজীবী নয়, ৩৬৫ দিনই বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করতে হতেও পারে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে প্যারিস রোডে মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ওয়ার্কস পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।
তিনি বলেন, রাবিতে চারজন শিক্ষককে হত্যা করা হলেও এখনো একজনেরও বিচার হয়নি। যার কারণে হত্যাকারীরা সহস পাচ্ছে।
এসময় পুলিশের সমলোচনা করে বাদশা বলেন, 'আমাদের সমাজে পুলিশের ফর্মুলা হলো সিসি ক্যামেরা। আপনাদের সিসি ক্যামেরায় অপরাধীরা ধরা পড়লে, কেন তাদেরকে ধরছেন না। আপনারদের সিসি ক্যামেরা আর চোখ আলাদা হয়ে গেছে। আপনার অন্ধ হয়ে গেছেন আর সিসি ক্যামেরা হয়ে গেছে পুলিশের চোখ। এসব তদন্তের কোন মূল্য আছে বলে আমি মনে করি না।'
রেজাউল করিম সিদ্দিকীর সহধর্মী হুসনে আরা বলেন, আর কোন স্বামীহারা স্ত্রীদের এমন শোকসভা অনুষ্ঠানে আসতে যেন না হয়। প্রশাসনের অগ্রগতি দেখে একবার হতাশা হই আবার মাঝে মাঝে আশান্বিত হই। তিনি তাঁর স্বামীর সুষ্ঠ বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একান্ত সহযোগিতা কামনা করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর মো.শহীদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর শাহ আজম শান্তুনু’র পরিচালনায় মহাসমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, রাবি’র ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, প্রো-ভিসি প্রফেসর চৌধুরী সারওয়া, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মহাসচিব প্রফেসর মাকসুদ কামাল, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মোকাদ্দেম হোসেন, রাবি’র শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর রেজাউল করিম, সাবেক ছাত্রউপদেষ্টা ও শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব প্রফেসর ছাদেকুল আরেফিন মাতিন, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, রুয়েটের শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর নীরেন্দ্রনাথ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তবিউর রহমান প্রমুখ।
মহাসমাবেশে বক্তারা বলেন, একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যা করে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অপরাধীরা শিক্ষক হত্যার মতো যঘন্য কাজ করেও বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। এতে করে বিচারহীনতার প্রবণতা বাড়ছে। যার ফলে শিক্ষক হত্যার তালিকা দিনের পর দিন লম্বা হচ্ছেই।
এদিকে সন্ধ্যায় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে রেজাউল করিম সিদ্দিকীর বিচারের দাবীতে বিশ্ববিদ্যালয় কাজলা গেটে মমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
এমআইএস





