আভ্যন্তরীন কোন্দলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রলীগের দুই কর্মী গুরুতর আহত হয়েছে। আহতরা হলেন ছাত্রলীগ নেতা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক মাহমুদ বনি, ফাইনান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন।

রডের আঘাতে আহত দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শের-ই-বাংলা ফজলুল হক হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। অনেক নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলগুলোতে মহড়া দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা বণিকে মারধর করার কারণে তার আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন মিলিত হয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেটে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে দেয়। এতে জান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে যাত্রীরা দূর্ভোগে পড়ে।

ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা অনিক মাহমুদ বনি স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সিনিয়র-জুনিয়র নেতাদের সাথে খারাপ আচরণ করে আসছিল।

এছাড়া বিভিন্ন নেতাকর্মীদের ফোনে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা তাকে এসব কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে বললেও সে কোনো কর্ণপাত করেনি। এমতাবস্থায় শনিবার দুপুর ২টার দিকে ছাত্রলীগ কর্মী অনিক মাহমুদ বনি বিভিন্ন নেতাকর্মীদের ফোনে শহীদ মিনারে আসতে বলে। অনিকের সাথে ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন, সাকিবুল হাসান বাকীসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি গ্রুপের সিনিয়র সহসভাপতি মেহেদী হাসান ও আতিকুর রহমান সুমন, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক কাউসার আহমেদ কৌশিকসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী শহীদ মিনারে আসলে তাদের সাথে বাকবিতন্ডতা শুরু হয়ে। ঘটনার এক পর্যায়ে অনিক মাহমুদ ও সাজ্জাদ হোসেনকে রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। তাদেরকে উদ্ধার করতে আসলে ছাত্রলীগ কর্মী বাকীকেও মারধর করা হয়। আহতাবস্থায় তাদের দুইজনকে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ক্যাম্পাসে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি এম মিজানুর রহমান রানা বলেন, ‘কর্মীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির কারনে একটি বিষয় নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। পরে বসে আমরা তা ঠিক করে দেব। তবে যারা নিজ দলের মধ্যে কন্দোল সৃষ্টি করবে তাদের ব্যাপারে সংগঠন থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিকেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে যাওয়া নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

এমএম