পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গবেষণাকর্ম জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন- পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন এবং একই বিভাগের প্রভাষক টিএইচএম সুমন রশিদ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন ও একই বিভাগের প্রভাষক টিএইচএম সুমন রশিদ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র। বর্তমানে গ্লোব ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানির সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের একটি গবেষণাকর্ম (যা একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে পঠিত হয়েছিল) প্রায় হুবহু নকল করে নিজেদের নামে ‘গ্লোবাল জার্নাল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’নামক আমেরিকার একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশ করেন।

বিষয়টি জানতে পেরে আসল গবেষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন উভয় লেখার কপি সংযুক্ত করে মোতাহার হোসেন ও সুমন রশিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি পাবিপ্রবি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আল-নকীব চৌধুরীর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এ গবেষণার তথ্য দিয়েই মোতাহার হোসেন বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চেয়ে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, এমন জালিয়াতির মাধ্যমে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের চেয়ারম্যান ও একজন প্রভাষক পুরো শিক্ষক সমাজের মুখে কালিমা লেপন করেছেন। এই অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে শিক্ষকরা আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক টিএইচএম সুমন রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করেন।

তবে অন্য শিক্ষক মোতাহার হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার নামে কেউ লেখাটি পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। শোকজ নোটিশ এখনও পাইনি। তবে অফিস কলিগ ও লোকমুখে শোকজের কথা শুনেছেন বলে স্বীকার করেন।

পাবিপ্রবির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আল-নকীব চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গবেষণাকর্ম জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ