কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স অ্যানেক্স ভবনের সামনে (কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বিপরীতে) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন।

এই মানববন্ধন অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ’সহ কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। 

মানববন্ধনে অংশ নেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী শিখা সরকার বলেন, “আমাদের ক্যাম্পাসে গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে, তা লজ্জাজনক। আমরা আমাদের ক্যাম্পাসে নিরাপদ নই। তাই এখানে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি।”

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শারফুর রহমান বলেন,  “আমরা তো কোনো অন্যায্য দাবি করি নাই, তাহলে পুলিশ কেন এ হামলা করল? আমরা এ হামলার বিচার চাই।”  

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, কোটা সংস্কারের যে দাবি, তা যৌক্তিক। এটা সরকারের মেনে নেওয়া উচিত।

গতকাল রোববার (৮ এপ্রিল) পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হয়। পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দুপুর আড়াইটায় ঢাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। প্রায় ৪ ঘণ্টার শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। রাত ৮টার দিকে আন্দোলনকারীদের হামলা চালায় পুলিশ।

ফাঁকা গুলি, টিয়ারশেল ও  লাঠিচার্জ করে কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।  তারা এসে চারুকলা অনুষদের সামনে অবস্থান নেয়। পরে তারা আন্দোলনকারীরা টিএসসির সামনে অবস্থান নেয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রলীগ।  টিএসসি এলাকা পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশের টিয়ারশেল, কাদানে গ্যাস, জলকামান নিক্ষেপ ও ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫০ জন।

কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চলে আসছে। ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৪ মার্চ ৫ দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি ধরপাকড় ও আটকের শিকার হয় তিন আন্দোলনকারী। এরপর আরো বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে রাস্তায় নামে আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি হলো- সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।

এমবি