ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ভোট চাইতে ছাত্রলীগের হাতে এসে লাঞ্ছিত হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী প্রকৌশলী আব্দুল আলীম। রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গ্রুপ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন মেগা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল আলীম।

তিনি ডুয়েটের প্রাক্তন ছাত্র এবং শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রোববার সকাল ৮টার দিকে তিনি ডুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের কাছে ভোট চাইতে আসেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ক্যাম্পাসে গিয়ে ভোট চাইতে গেলে ছাত্রলীগ নামধারী কিছু যুবক তাকে প্রচারণায় বাধা প্রদান করে। এক পর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। পরে শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে একাডেমিক ভবনে নিয়ে যান।

সেখানে তাকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত প্রায় সাত ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে ভিসি ও শিক্ষক নেতাদের হস্তক্ষেপে তিনি ছাড়া পেয়ে ঢাকায় ফিরে যান।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক প্যানেল নির্বাচন করছে। আওয়ামী লীগ সমর্থক প্রতিপক্ষ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আব্দুস সবুরের ইন্দনে তার উপর হামলা করা হয়। নির্বাচন থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতেই তার উপর হামলা করা হয়। এতে ডুয়েটের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে ডুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন জানান, প্রকৌশলী আব্দুল আলীম ডুয়েট থেকে ডিগ্রি লাভ করলেও তার নির্বাচনী প্রচারপত্রে বুয়েট লেখা রয়েছে। তিনি ডুয়েট থেকে পাশ করে প্রচারপত্রে বুয়েট লেখায় ডুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তার কাছে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে প্রকৌশলী আব্দুল আলীম সাহেব প্রচারণা না চালিয়েই ফিরে যান। তাকে কেউ লাঞ্ছিত করেননি।

এর আগে রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের। কিন্তু তাদের কর্মসূচি পালনে বাধা দিতে সকাল ৬টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। অপর দিকে আন্দোলনরত শিক্ষকরাও তাদের কর্মসূচি পালন করেত ক্যম্পাসে অবস্থান নেয়।

সকাল ৮টায় ভিসি তার কার্যালয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ড. ইয়াসমিন হকের নেতৃত্বে আন্দোলনরত শিক্ষকরা ভিসিকে তার কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেয়। এসময় ইয়াসমিন হকসহ আন্দোলনরত শিক্ষকরা ভিসিকে ঘিরে টানাহেচড়া করেন। এরপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এসে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

এদিকে, ছাত্রলীগের হামলায় অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকসহ ৭ শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’র আহবায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল ইসলাম।

এআই