শুধু নিজের মেয়েকে নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও যৌন উত্যক্ত করতো বলে সেই ইবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হেনস্তার কারণে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা এক ছাত্রীর বাবা।

গত ১৫জুলাই অভিযোগ পত্রটি ইবি প্রশাসনের হাতে এসে পৌছে। অভিযোগ পত্রে নিজ বিভাগের শিক্ষককর্তৃক মেয়েকে উত্যক্তের বিচার দাবি করেন ছাত্রীর বাবা জাহাঙ্গীর আলোম।

সম্প্রতি ইবির ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর উপর মানুষিক চাপ এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে। ক্রমাগত চাপের এক পর্যায়ে ওই ছাত্রী মানুসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে যায়। পরে ওই ছাত্রীকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে হল প্রশাসন।

ওই ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ করলে, প্রশাসন অভিযোগ পত্রটি ইবির নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলে দিয়েছে বলে জানা যায়।

অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, আমার মেয়ে পুতুল (ছদ্মনাম) মানসিক ভারসাম্য হারানোর মূল কারণ হলো ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় কুমার সরকার তাকে মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকিসহ আরো খারাপ ধরনের আচরণ করেছে। ভাইভাতে পুতুলকে চরম ভাবে মানসিক হেনেস্তা করেছে। আমার মেয়ে এরআগেও বাড়িতে এসে বড় মেয়ের কাছে ঐ শিক্ষকের খারাপ চরিত্র সম্পর্কে অভিযোগ করেছিল। পুতুল বলেছিল, তাকেসহ অন্যান্য বিভাগের অনেক মেয়েকে তিনি যৌন উত্যক্ত করেন। শিক্ষক সঞ্জয় কুমারের অসৎ চরিত্র এবং কুপ্রকৃতির প্রতিবাদ করায় সে পুতুলকে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ কালে তার সঙ্গে হিংস্র স্বভাবের আচরণ করে এবং লিখিত পরীক্ষায় তাকে ফেল করিয়ে দেয়। শিক্ষকের পশু সুলভ আচরণে আমার এতিম ‘মা’ হারা মেয়েটি হাসপাতালের বেডে যত্রতত্র যথারীতি প্রলাপ বকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। বর্তমানে আমার মেয়ে বারংবার শিক্ষক সঞ্জয় কুমার এর হুমকির কথা এবং তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা কথা মনে করে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ছে। আমি শান্তার অসুস্থ পিতা উক্ত অপরাধের সঠিক বিচার এবং প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এর জন্য আবেদন করতেছি।

অভিযোগে ভুক্তভোগী ছাত্রী পুতুলের পিতা আরও বলেন, ‘আমার মেয়েকে মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকির দৃষ্টান্ত মূলক বিচার দাবি করছি। যাতে আমার মেয়ের মতো আর কোন মেয়ের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে হাসপাতালের বেডে মাথা ঠুকে মরতে না হয়।’

হিমেল/জেড