সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবরোধে প্রায় চার ঘণ্টার বেশি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে ছাত্রলীগ। এ সময় আন্দোলনকারীদের উপর কয়েক দফায় হামলা চালিয়ে তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
হামলায় অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা যায়। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসানসহ ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।
এ সময় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মাসুদ আল মাহাদী, ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের প্রগতি বর্মনকে মারধর করে ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার নেতাকর্মীরা।
এদিন বেলা দেড়টা থেকে উপাচার্যকে রেজিস্ট্রার ভবনের নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেন ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দের’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বেলা ১টার দিকে কলাপসিবল গেট ভেঙে ভবনটিতে ঢুকে পড়েন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে তারা আরেকটি গেট ভেঙে উপাচার্যের কক্ষের সামনে অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জড়ো হয়ে চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
দাবিগুলো হলো- অধিভুক্ত সাত কলেজ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও যৌন নিপীড়নকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কার, প্রশাসনের করা নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা মামলা প্রত্যাহার এবং দায়িত্বপালনে ব্যর্থ প্রক্টরের অপসারণ।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অপরাজেয় বাংলা থেকে মিছিল নিয়ে টিএসসি, কলাভবন, বিজনেস ফ্যাকাল্টি, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ঘুরে উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের মিছিলের খবর পেয়ে আগে থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে তালা দিয়ে আটকে দেয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা লাঠি ও ইট দিয়ে তালা ভেঙে রেজিস্ট্রার ভবনে ঢুকে পড়েন।
এমআর





