চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ছাত্রলীগ-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোরে সিএমপির চকবাজার থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এই দুটি মামলা দায়ের করে। মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল আজিজ চট্টগ্রাম কলেজে শিবির-ছাত্রলীগ হামলার ঘটনায় ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

এই মামলায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে সংঘর্ষের পর পুলিশ চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাস থেকে শিবিরকর্মী সন্দেহে কমপক্ষে ৭০ জনকে আটক করে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে এদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৯০৮ সালের অস্ত্র আইনে এবং ১৯৪৭ সালের বিস্ফোরক আইনে মামলা দু’টি দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৩ ও ৪।

বিস্ফোরক আইনের মামলায় আটক থাকা ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৯০ থেকে ৯৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিস্ফোরক আইনের ১৬ (২) ধারার সঙ্গে মামলার বাদি এজাহারে দন্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯ ও ৪২৭ ধারাও সংযুক্ত করেছেন।

হোস্টেল থেকে চারটি কিরিচ, ৬টি হকিস্টিক, তিনটি পিস্তলের গুলির খোসা উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনের ১৯ (১) ধারার মামলায় আটক থাকা চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম কলেজে বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের কাছ থেকে হামলার শিকার হয় শিবির। হামলার পর ছাত্রলীগের কয়েক’শ নেতাকর্মী কলেজ ঘিরে অবস্থান নেয়। ছাত্রলীগের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে শিবিরের নেতাকর্মীরা কলেজ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে এর আগে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সাথে শিবিরের দিমুখী সংঘাতের ঘটনা ঘটে।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘাতের এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গেইট ভেঙ্গে চট্টগ্রাম কলেজের ভেতরে ঢুকে যায়। সেখানে বিভিন্ন ভবনে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাংচুর চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিবির কর্মী সন্দেহে দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৬৬ জনকে আটক করে। সংঘাতের কারণে চট্টগ্রাম কলেজে বিজয় দিবসের আলোচনা সভা পন্ড হয়ে যায়। শিবিরের হামলায় নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনিসহ কয়েকজন আহত হন।

রাতে চট্টগ্রাম কলেজ ও এর সামনাসামনি মহসিন কলেজের সব হোস্টেল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এমএম/এআই