জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির দাবির মুখে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল হোসেন দীপুকে প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ (সোমবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে ফয়সাল হোসেন দীপুকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে ভিসিকে ২৪ ঘন্টার সময় বেধে দেয় শিক্ষক সমিতি।

এদিকে নিয়োগ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শিক্ষক সমিতি তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় সমিতির আন্দোলন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. খবির উদ্দিন।

তিনি আরো জানান, আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভর্তি পরীক্ষায় সকল শিক্ষক অংশ নেবেন। ফলে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আর কোনো বাঁধা থাকছে না।

বিশ্ববিদ্যলিয়ের রেজিষ্ট্রার সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক সমিতির দাবির মুখে শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে অভিযুক্ত জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল হোসেন দীপুকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে ইতিমধ্যেই তার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদানের এক মাস আগেই চিঠি দিয়ে জানাতে হয়। সেই নিয়ম মেনেই আগামী এক মাস পর আর্থাৎ আগামী ১৮ নভেম্বর তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে বলে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি খবির উদ্দিন বলেন, রেজিস্ট্রার ফয়সাল হোসেন দীপুর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। দুই একদিনের মধ্যে লিখিত আকারে পাওয়া যাবে। দাবি আদায় হওয়ায় শিক্ষক সমিতি তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই চার ছাত্রলীগ নেতাসহ ছয়জনকে অ্যাডহক (অস্থায়ী) ভিত্তিতে নিয়োগ দেন ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দীপুকে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে ভিসি বিরোধী আন্দোলন চলাকালে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। ফলে নিয়োগ পেলেও শিক্ষকদের বিরোধিতার মুখে তিনি কাজে যোগ দিতে পারেননি।

এরপর গত ২৩ আগস্ট তার ওই নিয়োগ বাতিল করে রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পুনরায় তাকে অ্যাডহক ভিত্তিক নিয়োগ দেন ভিসি। এরপর থেকেই শিক্ষকেরা তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ গত শনিবার শিক্ষক সমিতি ভিসিকে নিয়োগ বাতিলের জন্য ২৪ ঘন্টার এ আল্টিমেটাম দেয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির হুমকি দেয় শিক্ষক সমিতি। নির্ধারিত সময় শেষ হবার একদিন পর শিক্ষকদের দাবি মেনে নিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কেবি