ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষার শেষ দিনে জালিয়াতির দায়ে তিন জনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আটককৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রকে ১ বছরের এবং জলিয়াতি চক্রের অন্যতম সদস্য ইবির শিক্ষার্থী রিপন আলী ও অপর এক জনকে ৬ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
রিপনের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশব্যাপি জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইকবালকে সনাক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে অবস্থিত ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উত্তম কুমার রায় বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণা শেষে গ্রেফতার দেখিয়ে চক্রের সদস্যদের ঝিনাইদহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, বুধবার উৎসব মুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ব্যাবসায় প্রশাসন অনুষদ ভূক্ত ‘জি’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এফ’ ইউনিটের পরীক্ষা চলাকালে অনুষদ ভবনের ৩৩২ নং কক্ষ থেকে আবুল হোসেন নামে এক ছাত্রকে আটক করা হয়।
ওই কক্ষের দায়িত্বরত শিক্ষকরা জানান, প্রবেশ পত্রের ছবির সাথে তার ছবির কোনো মিল পাওয়া না গেলে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়। আটক পরীক্ষার্থী আবুল হোসেন ঢাবির ফলিত রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে দেওয়া প্রক্সিবাজ ঢাবি শিক্ষার্থী আবুল হোসেনের ভাষ্যমতে, ইবির গণিত বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র রিপন আলী তার সাথে যোগাযোগ করে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা দেবার জন্য রাজি করায়।
সে সালাহউদ্দিন আকাশ নামের এক ছেলের হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিল। পরে আবুল হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুসারে জালিয়াতি চক্রের হোতা রিপন আলী ও আর এক সদস্য শ্যামল হোসেনকে বিশ্ববিদ্যালয় পার্শবতি এলাকা থেকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পরে রিপনের মোবাইল ফোনে ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইকবালকে ফোন করলে কৌশলে নিজেকে চক্রের সদস্য পরিচয় দিয়ে কথা বলে প্রশাসনের একজন কর্তা। “রিপনকে আটক করা হয়েছে এখন আমরা কি করব?”
মূল হোতা ঢাবি শিক্ষার্থী ইকবালকে এ কথা বলা হলে “ রিপন যেন আমার নাম না বলে। আমি সাড়া দেশে অপারেশন করি কোন সমস্যা হয় না। রিপন শুয়রের বাচ্চা আমাকে শেষ করে দিল” ইকবাল এমন কথা বলে আপছোছ করতে থাকে।
দীর্ঘ সময় শুনানী শেষে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উত্তম কুমার রায় এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে তিনি বলেন, ‘অন্যের হয়ে পরীক্ষা দেওয়ার অপরাধে আবুল হেসেনকে পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইন-১৯৮০ এর ৩ ধারা অনুযায়ী এক বছরের বিনাশ্রম ও তাকে সহযোগীতা করার অপরাধে রিপন আলী ও শ্যামলকে একই আইনের ৭ ও ১৩ ধারা অনুযায়ী ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণা শেষে অপরাধীদের গ্রেফতার দেখিয়ে ঝিনাইদহ কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
কারাদন্ড প্রাপ্ত ঢাবি শিক্ষার্থী আবুল হোসেনের পিতার নাম সিরাজুল হক। তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ থানার হাজীপুর গ্রামে।
জালিয়াত চক্রের হোতা রিপন আলী ইবির গণিত বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। সে কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার জুনাইদাহ গ্রামের দিরাজ মন্ডলের ছেলে।
শ্যামল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রেজাউল মোল্লার ছেলে। সে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রথম বর্ষের ছাত্র।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ইবির গণিত বিভাগের ছাত্র রিপন আলী সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় সম্পৃক্ত শক্তিশালী জালিয়াত চক্রের সাথে জড়িত।
তার মোবাইল ফোনের একাধিক কল এবং রিপনের ভাষ্য থেকে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। সারাদেশে ভর্তি জালিয়াতির মাধ্যমে সে কোটি টাকা আয় করেছে।
ইকবাল নামের ঢাবির আইন বিভাগের এক ছাত্র এই জালিয়াত চক্রের প্রধান হোতা। রিপন আটক হওয়ার পর তার মোবাইলে ইকবালসহ ভর্তি জালিয়াত চক্রের সদস্যদের শতাধিক ফোন এসেছে।
এ সকল তথ্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালালে সারাদেশের ভর্তি জালিয়াতির মূল হোতাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’
এমকে





